Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন

সবার আগে জ্বালানিশূন্য হতে পারে বাংলাদেশ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

সবার আগে জ্বালানিশূন্য হতে পারে বাংলাদেশ

বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত এক মাস পেরিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্পষ্ট। সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে কয়েক দফায়। যার ঢেউ এসে লাগছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে জ্বালানির বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলে দ্রুত সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এরই মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ দেখা গেছে। অনেক জায়গায় মোটরসাইকেলচালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি নিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও পাম্পে সরবরাহ শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ব্যস্ত সড়কগুলোতেও যানবাহনের সংখ্যা কিছুটা কমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে সংযোগকারী এই পথ দিয়ে এশিয়ার অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এই রুট স্বাভাবিক না থাকলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

গত মাসের শেষে বাংলাদেশে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রায় ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত ছিল, যা দিয়ে দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় জ্বালানি সরবরাহ করা যায়। এ অবস্থায় সরকার সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। জ্বালানির ব্যবহার সীমিত করা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনা দেওয়া এবং প্রয়োজনে কিছু ক্ষেত্রে কার্যক্রম কমিয়ে আনার মতো উদ্যোগের কথা আলোচনায় রয়েছে।

ডিজেলের মজুতও একইভাবে চাপে রয়েছে। এখন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশের একমাত্র পরিশোধনাগারে মজুত অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ খুব বেশি নয়—বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী তা সীমিত সময়ের জন্য যথেষ্ট। একইভাবে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির মজুতও দ্রুত কমছে।

এ পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, পাশাপাশি নতুন সরবরাহ নিশ্চিত করার কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার