Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

মার্কিন সেনাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করা হবে

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৭:২০ পিএম

মার্কিন সেনাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করা হবে

বিজ্ঞাপন

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে এক গভীর সংকটের দিকে এগোচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে। এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।

ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, শত্রুরা জনসমক্ষে আলোচনার কথা বললেও গোপনে স্থল অভিযানের নীল নকশা আঁকছে।

একদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক শক্তি জড়ো করছে যুক্তরাষ্ট্র।  এতে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।  ইরানও এ বিষয়ে সতর্ক এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যে কোনো স্থল আক্রমণ হলে তারা কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং মার্কিন সেনাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করবে।  খবর সিএনএন ও আলজাজিরার। 

মার্কিন কর্মকর্তারা কী বলছেন?

যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনো নিশ্চিত করেনি যে আমেরিকান সেনাদের ইরানে পাঠানো হবে কিনা, তবে এই সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেনি।

প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সিবিএস টিভি নেটওয়ার্ককে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে যতদূর যেতে হয় ততদূর যেতে প্রস্তুত এবং ওয়াশিংটন নিশ্চিত করবে যে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা কখনোই সফল না হয়।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত সপ্তাহে বলেন, স্থল অভিযান এই মুহূর্তে পরিকল্পনার অংশ নয়, তবে ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছেন।

গত সপ্তাহে কংগ্রেসে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্য থেকে বোঝা যায় কেন স্থলবাহিনীর প্রয়োজন হতে পারে।

মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্যরা ইংল্যান্ডের ফেয়ারফোর্ডে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে একটি বি-১বি বোমারু বিমান থেকে নামানো গোলাবারুদ নিরাপদে সংরক্ষণ করছেন।  ছবি : সংগৃহীত

জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ আমেরিকান ইরানে সেনা পাঠানোর বিরোধিতা করে।

এই সপ্তাহে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা, যাদের বেশিরভাগই বামপন্থী এর বিপক্ষে রয়েচে। যুদ্ধের শুরুতে ওয়াশিংটন পোস্টের এক দ্রুত এসএমএস জরিপেও অধিকাংশ মানুষ যুদ্ধের বিরোধিতা করেন।

এছাড়া, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরপরই করা রয়টার্স-ইপসোস জরিপে দেখা যায়, ৪৩ শতাংশ মানুষ যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন এবং ২৯ শতাংশ অনিশ্চিত ছিলেন। মাত্র চারজনের একজন এই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলাকে সমর্থন করেছেন।

কী হতে পারে ? 

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী।  সংঘাতের যদি এই পথ বন্ধ হয়ে যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এছাড়া ইরান তার প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এতে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরির পাশাপাশি পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। 

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। সম্ভাব্য এসব হামলায় ইরান আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। যার কারণে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- বৈশ্বিক রাজনীতি আর অর্থনৈতিক এ চরম সংকটে দুই পক্ষ দুই মেরুতে অবস্থান করছে। কোনো আপসের লক্ষণ না থাকার ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার