বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হৃদপণ্ডে ইরানের হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে ইরানের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরো যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। এই হামলার মাধ্যমে ইরান তার সামরিক সক্ষমতার যে জানান দিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের লেকচারার মুহানাদ সেলুমের মতে, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে।
দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে ছোঁড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা ৪ হাজার কিলোমিটারের (প্রায় ২,৪৯০ মাইল) বেশি। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার। কিন্তু এই হামলা প্রমাণ করেছে, তেহরানের হাতে এমন সব অস্ত্র আছে যা আগে কখনও প্রকাশ করা হয়নি।
মুহানাদ সেলুম বলেন, আপনি যদি এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর দিক পরিবর্তন করেন, তবে তা সরাসরি লন্ডনে গিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি কেবল যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবই বদলাবে না, বরং যুদ্ধে যোগ দিতে অনিচ্ছুক যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানকেও নাড়িয়ে দেবে।
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ইরানের হাতে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে যা যুক্তরাষ্ট্রেও পৌঁছাতে সক্ষম, কারণ তারা তাদের মহাকাশ কর্মসূচির মাধ্যমে এর পরীক্ষা চালিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, দিয়েগো গার্সিয়ার ঘটনা সেটিকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করেছে। ব্রাসেলস-ভিত্তিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিজাহ ম্যাগনিয়ারের মতে, যুদ্ধক্ষেত্র এখন ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমেরিকানরা যেভাবে যুদ্ধের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল, তা এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন নতুন এলাকা এখন ইরানের নিশানায় চলে আসছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান প্রথাগত যুদ্ধে জেতার চেষ্টা করছে না, কারণ সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র অনেক বেশি শক্তিশালী। ইরান মূলত যুদ্ধের ‘ব্যয়’ বাড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছে।
ম্যাগনিয়ারের মতে, একটি দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুকে হুমকি দেওয়ার মাধ্যমে ইরান এই সংকেত দিচ্ছে যে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ঝুঁকির মাত্রা তত বেশি বাড়বে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের পুরো সামরিক কৌশল নতুন করে ভাবতে হবে।
উল্লেখ্য, দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে ইরান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। যার মধ্যে একটি মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে এবং অন্যটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মাঝপথে পড়ে যায়। হামলা সফল না হলেও, ইরানের এই দূরপাল্লার সক্ষমতা প্রদর্শনই পশ্চিমা বিশ্বের জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন