Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘সেজ্জিল’ কেন এত আলোচনায়?

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৪০ এএম

ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘সেজ্জিল’ কেন এত আলোচনায়?

বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে প্রথমবারের মতো নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সেজ্জিল’ ব্যবহার করেছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইসরায়েলের সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে উন্নত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি।

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রোববার (১৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইয়া জাহরা’ কোডনামে তারা একটি বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানে কেবল সেজ্জিলই নয়, বরং দ্বৈত ওয়ারহেডযুক্ত অত্যাধুনিক খোররামশাহর, খায়বার, কদর এবং এমাদ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় বহর ব্যবহার করা হয়েছে।

আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কঠিন জ্বালানি চালিত এই ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত দ্রুতগতিতে লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম, যা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ইরানের এই নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় তেল আবিব ও হার্জলিয়াসহ ইসরায়েলের অন্তত ১৪১টি স্থানে একযোগে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। পরিস্থিতির কারণে হাজার হাজার ইসরায়েলি নাগরিক নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে চলে যান।

ইরান দাবি করেছে, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ড সেন্টার এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হানা হয়েছে।

সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র কী?

সেজ্জিল-২ একটি দ্বি-স্তরবিশিষ্ট কঠিন জ্বালানি চালিত মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর আনুমানিক পাল্লা প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার ও এটি প্রায় ৭০০ কিলোগ্রাম পেলোড বহন করতে সক্ষম।

উচ্চ-উচ্চতায় কৌশলগতভাবে গতিপথ পরিবর্তন করার ক্ষমতার কারণে এটিকে অনেক সময় ‘নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র’ বলা হয়। এই বৈশিষ্ট্যের ফলে এটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—ফাঁকি দিতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) -এর তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ মিটার, ব্যাস প্রায় ১.২৫ মিটার ও ওজন প্রায় ২৩ হাজার ৬০০ কিলোগ্রাম।

সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর কঠিন জ্বালানি নকশা। এর ফলে এটি পুরোনো তরল জ্বালানি নির্ভর ক্ষেপণাস্ত্র—যেমন শাহাব সিরিজ—এর তুলনায় অনেক দ্রুত প্রস্তুত ও উৎক্ষেপণ করা যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা দেয়।

সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা তৈরির কাজ শুরু হয় ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে।

সিএসআইএস-এর তথ্য অনুযায়ী, এর প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হয় ২০০৮ সালে, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে।

পরবর্তী বছর ২০০৯ সালের মে মাসে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা চালানো হয় উন্নত নির্দেশনা ও নেভিগেশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করতে। এরপর আরও কয়েকটি পরীক্ষা চালানো হয়।

ষষ্ঠ পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় এক হাজার ৯০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ভারত মহাসাগরে পৌঁছায় বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা শুরু করার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার