Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ইরানে হামলা: বিশ্বব্যাপী দাম বাড়ছে যেসব পণ্যের

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

ইরানে হামলা: বিশ্বব্যাপী দাম বাড়ছে যেসব পণ্যের

বিজ্ঞাপন


ইরানে যৌথভাবে আগ্রাসন চালাচ্ছে গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিটন ও তেল আবিবের চাপিয়ে দেওয়া এই অসম যুদ্ধের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে। বিশ্বের তেল পরিবহণের করিডোরখ্যাত হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই পথে পৃথিবীর মোট ব্যবহৃত তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্রুড ওয়েল বা অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছাচ্ছে না, যা মূলত সারা পৃথিবীকে গতিশীল রাখে। এই অপরিশোধিত তেল বাজারে না আসায় হুহু করে বাড়ছে তেল ও গ্যাসের দাম। একই সঙ্গে পরিবহণ খরচ বাড়তে থাকায় মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে খাদ্যপণ্যেও। 

আরও কী কী পণ্যের দাম বাড়ছে বা বাড়তে পারে তা নিচে আলোচনা করা হলো:

জ্বালানি তেলের দাম এবং খাদ্যের দাম একে অপরের পরিপূরক হিসেবে চলে। কৃষিজমিতে ব্যবহৃত সার থেকে শুরু করে ক্ষেত থেকে সুপারমার্কেটের তাকে খাবার পৌঁছে দেওয়া ট্রাক পর্যন্ত—খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের সব স্তরেই জ্বালানির দাম প্রভাব ফেলে।

তেলমূল্য বৃদ্ধি সরাসরি জাহাজ চলাচল ও পরিবহন ব্যয়ের ওপরও প্রভাব ফেলে।

অর্থনীতিবিদ ডেভিড ম্যাকউইলিয়ামস বলেন, ‘পরিবহন হলো বিশ্ব অর্থনীতির জীবনরক্ত। এটি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়—এটি একটি লজিস্টিক সমস্যা, সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যা এবং পরিশেষে পরিবহনই হলো বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি।’

বর্তমানে 'স্ট্যাগফ্লেশন' —অর্থাৎ ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা ঐতিহাসিকভাবে বড় ধরনের তেলের সংকটের সময় দেখা দেয়। অর্থনীতিবিদরা ১৯৭৩, ১৯৭৮ এবং ২০০৮ সালের সংকটের উদাহরণ টেনে বলছেন যে, অতীতে তেলের দামের সব উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফনের পরই কোনো না কোনো রূপে বিশ্বমন্দা দেখা দিয়েছে।

নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে মানুষ তাদের আয়ের একটি বড় অংশ খাবারের পেছনে ব্যয় করে এবং প্রচুর পরিমাণে শস্য ও সার আমদানি করে, সেখানে তেলের দাম বৃদ্ধি দ্রুত খাদ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।

তেল ও গ্যাস থেকে যে পণ্যগুলো তৈরি হয়

তেল ও গ্যাস কেবল জ্বালানি হিসেবেই নয়, আরও অনেক কাজে ব্যবহৃত হয়। এগুলো হাজার হাজার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কাঁচামাল।

প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য—যেমন পানির বোতল, খাবারের প্যাকেট, ফোনের কেসিং এবং চিকিৎসার সিরিঞ্জ—সবই অপরিশোধিত তেল থেকে তৈরি।

পলিয়েস্টার, নাইলন ও অ্যাক্রিলিকের মতো সিন্থেটিক কাপড়েরও গোপন উপাদান হলো এই অপরিশোধিত তেল, যা খেলাধুলার পোশাক থেকে শুরু করে কার্পেট তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। এটি প্রসাধনী শিল্পেরও মূল ভিত্তি, কারণ পেট্রোলিয়াম জেলি (ভ্যাসলিন), লিপস্টিক এবং কনসিলার তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হয়।

গৃহস্থালির বিভিন্ন পণ্যও তেল-ভিত্তিক উপাদানের ওপর নির্ভরশীল; যেমন লন্ড্রি ডিটারজেন্ট, ডিশওয়াশিং লিকুইড এবং পেইন্ট—সবই পেট্রোলিয়াম পণ্য থেকে তৈরি।

বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা মূলত সারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত হয়। এই সার ফসলের ফলন বাড়াতে এবং খাদ্যের চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: আলজাজিরা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার