বিজ্ঞাপন
নেতানিয়াহু মারা গেছেন বা আহত, দাবি ইরানি সংবাদমাধ্যমের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়া নিয়ে হিব্রুভাষী গণমাধ্যমগুলোর দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। মূলত গত কয়েকদিন ধরে নেতানিয়াহুকে জনসম্মুখে বা কোনো ভিডিও বার্তায় দেখা না যাওয়ায় এই গুঞ্জন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহের মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছে। কারণগুলো ধারাবাহিকভাবে নিচে দওয়া হলো-
তিন দিন পার হয়ে গেছে নেতানিয়াহু তার ব্যক্তিগত চ্যানেলে শেষ ভিডিও পোস্ট করেছেন। এছাড়া প্রায় চার দিন পার হয়েছে তার শেষ ছবি প্রকাশিত হয়েছে। এরপর থেকে তার নামে কিছু বিবৃতি এসেছে, তা কেবল লিখিত বা টেক্সট আকারে ছিল।
এর আগে সাধারণত তার চ্যানেল থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত একটি এবং কখনও কখনও তিনটি পর্যন্ত ভিডিও প্রকাশ করা হতো। গত তিন দিনে একটি ভিডিও-ও প্রকাশ না পাওয়ায় এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বেশ কিছু হিব্রু গণমাধ্যমের সূত্রের বরাতে তাসনিম জানিয়েছে, রোববার (৮ মার্চ) থেকে নেতানিয়াহুর বাসভবনের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে, বিশেষ করে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা মোকাবিলায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
আজ ইসরায়েলে জ্যারেড কুশনার (ট্রাম্পের জামাতা) এবং স্টিভ উইটকফের (ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি) পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করা হয়েছে। মূলত নেতানিয়াহুর কোনও দুর্ঘটনার পরিস্থিতির কারণে এ বিলম্ব বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়াও এলিসি প্যালেস থেকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোন আলাপের বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ওই সংবাদেও কথোপকথনের কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি; কেবল কথিত সেই আলাপের একটি লিখিত পাঠ বা টেক্সট প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে এই জল্পনাগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা বা অস্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তাসনিম।
এদিকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার। এ ছাড়াও এ হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের বাড়িতে আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৯ মার্চ) যাচাই না করা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু পোস্টের বরাতে এ দাবি জানিয়েছেন স্কট রিটার। এমনটি জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহের।
কী বলছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম
নেতানিয়াহুর মৃত্যু বা আহত হওয়ার খবরকে একেবারে মিথ্যা বা গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট।
সংবাদমাধ্যমটির দাবি, হিব্রু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর ওপর কোনো হামলার প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে কিছু পরোক্ষ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে—যেমন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক কোনো ভিডিও ক্লিপ না থাকা, তার বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার নিয়ে হিব্রু গণমাধ্যমের খবর, জ্যারেড কুশনার ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সফর স্থগিত হওয়া এবং প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফোনালাপের সংবাদ প্রতিবেদনে কোনো তারিখ উল্লেখ না থাকা।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাসনিমের প্রতিবেদনে রুশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের একটি দাবিকেও ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয় যে, ইরান নেতানিয়াহুর গোপন আস্তানায় বোমা হামলা চালিয়েছে এবং তার ভাই নিহত হয়েছেন। তবে তাসনিম নিজেই উল্লেখ করেছে, এই জল্পনার কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা বা অস্বীকৃতি এখনও পাওয়া যায়নি।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন মতে, এই গুজব ছড়িয়ে পড়া ইরানি তথ্যযুদ্ধের একটি পরিচিত ধারণাকে প্রতিফলিত করে। এই ধারণায় কিছু বিচ্ছিন্ন তথ্যকে নাটকীয় রূপ দিয়ে প্রচার করা হয়। বার্তাসংস্থা তাসনিমকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ইরান-সমর্থিত সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত খবরগুলো নাকচ করে দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, গত ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নেতানিয়াহুর একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। ৬ মার্চ তাকে বীরশেবা এলাকায় একটি ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। আর ৫ মার্চ ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তার ফোনালাপের বিষয়টি ফরাসি প্রেসিডেন্সি এবং দ্য জেরুজালেম পোস্ট নিশ্চিত করেছে।
এর আগেও ইরানের এমন দাবিকে ‘ফেক নিউজ’ বা ভুয়া খবর হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের আশেপাশে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চিহ্নও দেখা যায়নি বলে এর আগে সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি জানিয়েছিল। যুদ্ধের সময় শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা বা সূচির পরিবর্তন হওয়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়, যা কোনোভাবেই তার মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের প্রমাণ হতে পারে না। সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র তাসনিমকে এই তত্ত্ব নিশ্চিত করেনি।
বিজ্ঞাপন