বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে
যা বলছে ভবিষ্যদ্বাণী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই আগ্রাসনের পর হাতের মুষ্ঠি ছেড়ে দিয়েছে তেহরানও। ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে। এখন পর্যন্ত ইরান একাই ১০টির বেশি দেশের বিরুদ্ধে বীরদর্পে লড়ে যাচ্ছে।
চলমান সংঘাতে এখন জয়পরাজয় নির্ণয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে হেরে যাবে—এমন ভবিষ্যদ্বাণী করে ভাইরাল হয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল 'প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি'-র সঞ্চালক অধ্যাপক জুয়েকিন জিয়াং।
চীনা-কানাডীয় এই শিক্ষাবিদ ২০২৪ সালে একটি অনলাইন বক্তৃতার সময় এ মন্তব্য করেছিলেন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ব্যাপক যুদ্ধ চলমান থাকায় ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি ২০২৪ সালে তিনটি বড় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। প্রথমটি ছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ক্ষমতায় ফিরবেন; দ্বিতীয়টি ছিল তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করবেন। যেহেতু তার উভয় ভবিষ্যদ্বাণীই সত্য প্রমাণিত হয়েছে, তাই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা তাকে ‘চীনের নস্ট্রাদামাস’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন।
নস্ট্রাদামাস ছিলেন ১৬০০ শতাব্দীর বিখ্যাত ফরাসি জ্যোতিষী, চিকিৎসক এবং ভবিষ্যৎদ্রষ্টা। তার আসল নাম ছিল মিশেল দ্য নস্ট্রাদাম।
জুয়েকিন জিয়াং আসলে কে
জিয়াং বেইজিংয়ে দর্শন ও ইতিহাস পড়ান। ইয়েল কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা এই শিক্ষক তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় চীনে শিক্ষা সংস্কার এবং পাঠ্যক্রম প্রণয়নের কাজে ব্যয় করেছেন।
শিক্ষকতার বাইরেও, জিয়াং তার ইউটিউব প্রকল্প ‘প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি’-র মাধ্যমে অনলাইনে এক বিশাল অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি করেছেন। এই বক্তৃতাগুলোতে তিনি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিমূলক ধরন, ভূ-রাজনৈতিক চালিকাশক্তি এবং 'গেম থিওরি' বিশ্লেষণের মাধ্যমে বৈশ্বিক ঘটনাবলির পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা করেন।
তার পদ্ধতিটি লেখক আইজ্যাক আসিমভের 'ফাউন্ডেশন' উপন্যাসে কাল্পনিক বিজ্ঞান ‘সাইকোহিস্ট্রি’ ধারণা দ্বারা কিছুটা অনুপ্রাণিত—যেখানে দীর্ঘমেয়াদী ঐতিহাসিক ধরনগুলো ব্যবহার করে ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
‘চীনের নস্ট্রাদামাস’ ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে নিয়ে তিনটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন; যার মধ্যে দুটি ইতোমধ্যেই ফলে গেছে।
এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক অনলাইন ব্যবহারকারী অধ্যাপক জিয়াং-এর লেকচারটিকে অস্বাভাবিকভাবে সঠিক ভূ-রাজনৈতিক পূর্বাভাসের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
অধ্যাপক জিয়াংয়ের ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন।
বিতর্কিত সেই ভবিষ্যদ্বাণী
২০২৪ সালের মে মাসে রেকর্ড করা একটি বহুল আলোচিত লেকচারে জিয়াং যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ট্রাম্প যদি ক্ষমতায় ফিরে আসেন, তবে ভূ-রাজনৈতিক চাপ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, এ ধরনের সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে।
ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা টেনে জিয়াং ইরানের সম্ভাব্য মার্কিন আক্রমণকে 'সিসিলিয়ান এক্সপেডিশন'-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যখন এথেন্স একটি বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যা শেষ পর্যন্ত বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল।
তিনি যুক্তি দেন যে, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসংখ্যা দীর্ঘায়িত দখলদারিত্বকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলবে। পাহাড়ি ভূখণ্ড, দীর্ঘ রসদ সরবরাহ লাইন এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ দ্রুত প্রাথমিক সামরিক সাফল্যকে কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত করতে পারে।
মার্কিন টিভি শো-তে জিয়াং যা বলেছিলেন
জিয়াং সম্প্রতি সংবাদ ও মতামত বিষয়ক সিরিজ 'ব্রেকিং পয়েন্টস'-এ উপস্থিত হয়েছিলেন, যেখানে তিনি তার আশঙ্কা সম্পর্কে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ যেভাবে এগোচ্ছে সে সম্পর্কে আমার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের অনেক বেশি সুবিধা আছে। বাস্তবতা হলো, বর্তমানে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ, এবং ইরানিরা গত ২০ বছর ধরে এ সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে’।
তিনি আরও বলেন, তাদের অনেক প্রস্তুতির সুযোগ ছিল। গত জুনে ১২ দিনের একটি যুদ্ধ হয়েছিল যখন ইরানিরা ইসরাইলি এবং আমেরিকান উভয়ের আক্রমণ ক্ষমতা পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়েছিল। এছাড়া এই নতুন আক্রমণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি নিতে তারা আট মাস সময় পেয়েছে।
এই শিক্ষাবিদ বলেন, ইরানের প্রক্সিগুলো—হুথি, হিজবুল্লাহ ও হামাস—আমেরিকান মানসিকতা বুঝতে পেরেছে এবং এখন তাদের কাছে আমেরিকান সাম্রাজ্যকে দুর্বল এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংস করার একটি বেশ ভালো কৌশল রয়েছে।
সাম্প্রতিক এক লেকচারে জিয়াং বলেছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘকাল ধরে চলবে এবং যখন এটি অবশেষে শেষ হবে, পৃথিবী আর আগের মতো থাকবে না।
জিয়াং-এর বৃহত্তর ভবিষ্যদ্বাণীগুলো শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হবে কিনা তা দেখার বিষয়। তবে আপাতত, এই অধ্যাপকের একসময়ের অখ্যাত এই বক্তৃতাটি তাকে ইন্টারনেটের সবচেয়ে আলোচিত ভূ-রাজনৈতিক পূর্বাভাসদাতাদের একজনে পরিণত করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি।
বিজ্ঞাপন