Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

শত্রুদের কলিজা পোড়ানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া কে এই আলি লারিজানি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

শত্রুদের কলিজা পোড়ানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া কে এই আলি লারিজানি

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আলোচনায় এসেছেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি। শনিবার (১ মার্চ) দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি হয়ে উঠেছেন দেশটির অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি। আগে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে লারিজানিকে মোটামুটি শান্ত ও বাস্তববাদী ব্যক্তিত্ব মনে করা হতো। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনি ও আইআরজিসিরি কমান্ডার পাকপুরের মৃত্যুর মাত্র ২৪ ঘণ্টা পর সেই শান্ত ব্যক্তিত্ব টেলিভিশনে আগুনঝরা বক্তব্য দিয়েছেন।

এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। লারিজানি সম্পর্কে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লারিজানি এমন ব্যক্তিত্ব, যিনি অষ্টাদশ শতকের দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের ওপর বই লিখেছেন, আবার পশ্চিমাদের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেছেন। গত এক বছরে লারিজানি ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমেরিকা ও জায়নবাদী রেজিম ইরানি জাতির কলিজা জ্বালিয়ে দিয়েছে। আমরাও তাদের কলিজা পোড়াব। আমরা জায়নবাদী অপরাধী ও নির্লজ্জ আমেরিকানদের তাদের কৃতকর্মের জন্য পস্তাতে বাধ্য করব।’

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে লারিজনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ আনেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’

১৯৭৯ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট খামেনির মৃত্যু। সংকট মোকাবেলায় কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন লারিজানি। খামেনির মৃত্যুর পর তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার তিন সদস্যের অস্থায়ী কাউন্সিলের পাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরানের কেনেডি পরিবার

১৯৫৮ সালের ৩ জুন ইরাকের নাজাফ শহরে জন্মগ্রহণ করেন আলী লারিজানি। তার পরিবার ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার হিসেবে পরিচিত। লারিজানির বাবা মির্জা হাসেম আমোলি ছিলেন একজন খ্যাতনামা আলেম। লারিজানি পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই বেশি যে একসময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদেরকে ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ বলেও উল্লেখ করেছে। তার ভাইয়েরাও ইরানের বিচার বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

লারিজানি ২০ বছর বয়সে ফারিদেহ মোতাহারিকে বিয়ে করেন, যিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির ঘনিষ্ঠ সহচর মর্তেজা মোতাহারির মেয়ে।

শিক্ষা

ধর্মীয় পারিবারিক পটভূমির পাশাপাশি লারিজানির রয়েছে শক্তিশালী অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা। তিনি শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ্চাত্য দর্শনে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী। জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের দর্শন ছিল তার গবেষণার বিষয়বস্তু।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার

সাবেক রেভোল্যুশনারি গার্ড: লারিজানি একসময় রেভোল্যুশনারি গার্ডের সদস্য ছিলেন।

পরমাণু আলোচক (২০০৫-২০০৭): তিনি ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির কট্টর সমর্থক ছিলেন। ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রস্তাবকে তিনি মুক্তার বদলে ক্যান্ডি বার নেওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

পার্লামেন্ট স্পিকার (২০০৮-২০২০): দীর্ঘ ১২ বছর তিনি পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন। তার সময়েই ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী

লারিজানিকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত মাসেই তিনি ওমানে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতেও তিনি সম্প্রতি বেশ কয়েকবার মস্কো সফর করেছেন, যা আরও উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিরই লক্ষণ।

তবে লারিজানির ভাবমূর্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। গত জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকা রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রণালয় তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, লারিজানিই প্রথম বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরুর ডাক দিয়েছিলেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ওই দমনে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। লারিজানি অবশ্য বিক্ষোভকারীদের শহরকেন্দ্রিক আধা-সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

লারিজানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সুরক্ষা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দরকষাকষিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

আলজাজিরায় প্রকাশিত ‘হু ইজ আলি লারিজানি, দ্য ইরানিয়ান অফিসিয়াল প্রমিজিং আ লেসন টু দ্য ইউএস?’ শীর্ষক ফিচার প্রতিবেদন অনুবাদ করেছেন মুহাম্মাদ শাখাওয়াত হুসাইন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার