বিজ্ঞাপন
আকাশসীমা বন্ধ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক মহড়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আকাশসীমা আংশিক বন্ধ করে তিন দিনের সরাসরি গোলাবর্ষণ বা 'লাইভ ড্রিল' মহড়া শুরু করেছে ইরান।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই মহড়া চলবে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত। ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিশেষ বিমান সতর্কবার্তায় (নোটাম) জানানো হয়েছে, ৫ নটিক্যাল মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত সব ধরনের বেসামরিক ও সামরিক উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই রুট দিয়ে পরিবহণ করা হয়, ফলে এখানে যেকোনো সামরিক তৎপরতা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলে।
এমন এক সময়ে ইরান এই মহড়া দিচ্ছে যখন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' এবং বেশ কিছু গাইডেড-মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইওয়ার এক অনুষ্ঠানে ইরানের দিকে মার্কিন নৌবহর অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, তিনি একটি সুন্দর নৌবহর ইরানের দিকে পাঠিয়ে আশাবাদী যে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হবে।
ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যে কোনো ছোট বা বড় হামলাকে তারা ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবেন এবং এর কঠোরতম জবাব দেবেন। এই উত্তেজনার মাঝে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা বা ভূমি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি ইসরাইলে কোনো হামলা চালায়, তবে তারা এমন শক্তি দিয়ে তার জবাব দেবে যা ইরান আগে কখনো দেখেনি। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকে ইসরাইল নিজস্ব সুরক্ষা ও পাল্টা হামলার বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: সামা টিভি।
বিজ্ঞাপন