বিজ্ঞাপন
জোর করে নয়, কৌশলে নেব: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
বিজ্ঞাপন
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের ব্যাপারে তার অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তবে এবার তিনি প্রথমবারের মতো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপটি জোরপূর্বক দখল করার কোনো পরিকল্পনা করছে না। তার পরিবর্তে তিনি শুল্কভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড অর্জনের কৌশল গ্রহণ করতে চান।
ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনের মধ্যকার কৌশলগত অবস্থানের কারণেই গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ডের ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প এমন কিছু দাবি করেছেন যা ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বক্তব্য চলাকালে ট্রাম্প দাবি করেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্কের কাছে ‘ফিরিয়ে দিয়েছিল’। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ইতিহাসবিদ ও ফ্যাক্ট-চেকাররা ভুল বলে প্রমাণিত করেছেন। যদিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি ডেনমার্ক আক্রমণ করার পর যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছিল এবং সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছিল, কিন্তু দেশটি কখনোই গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌম মালিক ছিল না। ফলে ‘ফিরিয়ে দেওয়ার’ প্রশ্নটি অবান্তর।
১৯৩৩ সাল থেকেই আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৫৪ সালে জাতিসংঘে যখন গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্কের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তখন যুক্তরাষ্ট্র নিজেও সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
সম্মেলনে ট্রাম্পের বক্তৃতায় আরেকটি বড় বিভ্রান্তি তৈরি হয় যখন তিনি বারবার ‘গ্রিনল্যান্ড’-এর পরিবর্তে ‘আইসল্যান্ড’-এর নাম উচ্চারণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে আইসল্যান্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে এবং আইসল্যান্ড আমেরিকার অনেক টাকা নষ্ট করছে। অথচ গত কয়েক সপ্তাহে আইসল্যান্ড দখল বা অর্জন নিয়ে ট্রাম্প কোনো মন্তব্যই করেননি।
আইসল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ডের এই ইস্যু নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মন্তব্যও বিতর্ক উসকে দিয়েছে। আইসল্যান্ডে নিযুক্ত হতে যাওয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিলি লং মজা করে বলেছিলেন, গ্রিনল্যান্ডের পর আইসল্যান্ডকেও যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য করা উচিত এবং তিনি সেখানে গভর্নর হতে চান।
যদিও পরে তিনি এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, তবে বিষয়টি নিয়ে আইসল্যান্ডের রাজনীতিতে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা যখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তখন ট্রাম্পের এমন বিভ্রান্তিকর এবং আক্রমণাত্মক বক্তব্য এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা।
বিজ্ঞাপন