Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

বাড়ছে আত্মহত্যার হার, মানসিক রোগে ভুগছেন ৬০% ইসরাইলি সেনা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

বাড়ছে আত্মহত্যার হার, মানসিক রোগে ভুগছেন ৬০% ইসরাইলি সেনা

বিজ্ঞাপন

ফিলিস্তিনের গাজায় দুই বছর ধরে হামলার সময় এবং এর পর থেকে ইসরাইলের সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যা ও আঘাত–পরবর্তী মানসিক চাপসংক্রান্ত রোগ (পিএসটিডি) বাড়ছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

প্রতিবেদনগুলোয় ইসরাইলি বাহিনীর সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সংকটের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলা চালায় হামাস। এতে প্রায় এক হাজার ২০০ জন নিহত হন। সেদিন থেকেই উপত্যকাটিতে টানা নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতিতে যায় হামাস–ইসরাইল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এখন পর্যন্ত ইসরাইলি সেনাদের হামলায় উপত্যকাটিতে ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা সংঘাতের কারণে ইসরাইলি সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তাদের পিএসটিডি বা মানসিক রোগের পরিমাণ ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ সাল নাগাদ তা বেড়ে ১৮০ শতাংশ হবে। গাজায় আগ্রাসনে আহত ২২ হাজার ৩০০ সেনার ৬০ শতাংশ পিএসটিডিতে ভুগছেন।

ইসরাইলের এমেক মেডিকেল সেন্টারে সংঘাতফেরত সেনাদের ওপর গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মনোবিজ্ঞানী রোনেন সিদি। তিনি বলেন, ইসরাইলি সেনারা সাধারণত দুই কারণে পিএসটিডিতে ভুগছেন। একটি হলো সংঘাতের সময় মৃত্যুর ভয়। অপরটি হলো নৈতিক আঘাত। অর্থাৎ সংঘাতের সময় তারা এমন সব কর্মকাণ্ড করেছেন, যার ফলে এখন এসে মানসিক পীড়নে ভুগছেন।

ইসরাইলের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাকাবির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন ইসরাইলি সেনাদের ৩৯ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্যসহায়তা চাইছেন। আর ২৬ শতাংশ নিজেদের দুশ্চিন্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। গাজা সংঘাতে অংশ নেওয়া এক সেনা বলেন, সংঘাত এখন কমে এলেও দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকেন তিনি।

আরও পড়ুন
ইসরাইলি পার্লামেন্ট কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৭৯ জন ইসরাইলি সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এটি আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি। এ ছাড়া ২০২৪ সালে ইসরায়েলে যতজন আত্মহত্যা করেছেন, তাদের ৭৮ শতাংশই সংঘাতে অংশ নেওয়া ইসরাইলি সেনা। চিকিৎসা না দিলে এই হার আরও বাড়বে বলে শঙ্কা রোনেন সিদির।

ইসরাইলের নৃশংসতায় গাজার বেশির ভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাবার, আশ্রয় ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটে ভুগছেন তারা। ফিলিস্তিনি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের পর দিন চরম আতঙ্কের মধ্যে কাটানোর পর গাজার বাসিন্দারা এখন ভয়াবহ মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার