বিজ্ঞাপন
দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হলে কেন স্বাস্থ্যঝুঁকি কয়েকগুন বেড়ে যায়?
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
বিজ্ঞাপন
একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর আবারও এই ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়া সম্ভব। তবে দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হলে কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি প্রধান সেরোটাইপ রয়েছে- DENV-1, DENV-2, DENV-3 ও DENV-4।
একটি সেরোটাইপে আক্রান্ত হওয়ার পর ওই সেরোটাইপের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। কিন্তু অন্য সেরোটাইপগুলোর বিরুদ্ধে সুরক্ষা পুরোপুরি ও দীর্ঘস্থায়ী নয়। ফলে পরবর্তী সময়ে ভিন্ন সেরোটাইপের সংক্রমণ হতে পারে এবং তখন গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।
শরীরে তখন কী ঘটে?
দ্বিতীয় সংক্রমণের ক্ষেত্রে প্রথমবার তৈরি হওয়া কিছু অ্যান্টিবডি নতুন সেরোটাইপের ভাইরাসকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করতে না পারলে ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সম্ভাব্য প্রক্রিয়াকে অ্যান্টিবডি-ডিপেনডেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট বা ADE বলা হয়।
CDC-এর তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় সংক্রমণে cross-reactive বা non-neutralizing antibody ভাইরাসকে নির্দিষ্ট রোগপ্রতিরোধী কোষে প্রবেশে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে ভাইরাসের পরিমাণ ও সংক্রমণের মাত্রা বাড়তে পারে।
তবে ডেঙ্গুতে গুরুতর অসুস্থতার পেছনে শুধু ADE-ই দায়ী- এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। গবেষণায় রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া, টি-সেল, প্রদাহজনিত উপাদান এবং রক্তনালির ভেতর থেকে তরল বেরিয়ে যাওয়ার মতো একাধিক প্রক্রিয়ার ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে। তাই দ্বিতীয় সংক্রমণের জটিলতা একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়।
দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু মানেই কি গুরুতর ডেঙ্গু?
না। দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হলেই রোগী গুরুতর অবস্থায় যাবেন- এমন নয়। WHO বলছে, দ্বিতীয়বার সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে severe dengue-এর ঝুঁকি বেশি। আবার সংক্রমণের ক্রম, কোন সেরোটাইপ দিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয়েছেন এবং দুই সংক্রমণের মধ্যবর্তী সময়সহ বিভিন্ন বিষয় রোগের তীব্রতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এ কারণে আগে ডেঙ্গু হয়ে থাকলে পরবর্তীবার জ্বরকে সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও সতর্ক থাকতে হবে। WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর ডেঙ্গুর সতর্কতামূলক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্থিরতা, বমি কিংবা পায়খানায় রক্ত এবং তীব্র তৃষ্ণা। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
অর্থাৎ, আগে ডেঙ্গু হয়েছিল বলে পরবর্তী সংক্রমণ নিশ্চিতভাবেই ভয়াবহ হবে- এমন নয়। তবে দ্বিতীয়বার, বিশেষ করে ভিন্ন সেরোটাইপের ডেঙ্গু হলে গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাই আগের ডেঙ্গুর ইতিহাস থাকলে নতুন করে জ্বর ও উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।