Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য

‘ভালো ঘুম’ দেখালেও আসলে তা নাও হতে পারে, ট্র্যাকার নিয়ে গবেষণায় সতর্কতা

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

‘ভালো ঘুম’ দেখালেও আসলে তা নাও হতে পারে, ট্র্যাকার নিয়ে গবেষণায় সতর্কতা

বিজ্ঞাপন

ঘুম কতক্ষণ হলো, কখন ঘুমালেন কিংবা প্রতিদিন ঘুমের সময় কতটা নিয়মিত—এসব জানতে এখন অনেকেই স্মার্টওয়াচ ও অন্যান্য ঘুমের ট্র্যাকার ব্যবহার করেন। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ডিভাইস ঘুমের পুরো চিত্র সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে না। এমনকি ভালো ঘুম হয়েছে বলেও অনেক সময় ভুল ধারণা দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনো সময় ঘুমের ট্র্যাকার ব্যবহার করেছেন। এসব ডিভাইস সাধারণত ঘুমের সময়, ঘুমের ধারাবাহিকতা এবং ঘুমের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে তথ্য দেয়। তবে গবেষকদের মতে, ঘুমের মান বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো—ঘুম থেকে ওঠার পর একজন মানুষ নিজেকে কেমন অনুভব করছেন। এই বিষয়টি ট্র্যাকারগুলো ঠিকভাবে ধরতে পারে না।

২ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ট্র্যাকার থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে মানুষ নিজের ঘুম সম্পর্কে যে অনুভূতি বা মূল্যায়ন করেন, তার মধ্যে অনেক সময় বড় পার্থক্য থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, পরিধানযোগ্য ডিভাইসের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য একজন মানুষের ঘুমের মান সম্পর্কে তার অনুভূতির মাত্র ২ দশমিক ৫ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাখ্যা করতে পারে। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি তার ঘুমকে কতটা ভালো বা খারাপ মনে করছেন, সেই পার্থক্যের ৮৪ থেকে ৯৮ শতাংশই ট্র্যাকার থেকে পাওয়া তথ্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত একটি পরীক্ষায় ফিটবিটের তথ্যকে পলিসমনোগ্রাফি বা পিএসজির সঙ্গে তুলনা করা হয়। পিএসজি ঘুম পরিমাপের একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। এতে মস্তিষ্কের তরঙ্গ, হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা এবং চোখ ও পায়ের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করা হয়।

সুস্থভাবে ঘুমানো মানুষের ক্ষেত্রে ফিটবিটের তথ্য পিএসজির সঙ্গে ৮২ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যভাবে মিলে যায়। কিন্তু অনিদ্রায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে এই হার নেমে আসে মাত্র ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশে। বয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় থাকা মানুষের ক্ষেত্রেও ট্র্যাকারগুলোর তথ্য তুলনামূলকভাবে কম নির্ভুল বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে।

এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো, কেউ বিছানায় জেগে থাকলেও যদি বেশি নড়াচড়া না করেন, তাহলে ট্র্যাকার সেটিকে ঘুম হিসেবে ধরে নিতে পারে। ফলে ঘুমিয়ে পড়ার আগে বিছানায় জেগে কাটানো সময় কিংবা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সময় সঠিকভাবে ধরা নাও পড়তে পারে।

গবেষণায় এমনও দেখা গেছে, একটি ডিভাইস মানুষের মোট ঘুমের সময় প্রায় ৩০ মিনিট বেশি দেখিয়েছে। একই সঙ্গে ঘুমের কার্যকারিতাও প্রায় ৮ শতাংশ বেশি দেখিয়েছে।

গবেষকদের মতে, এ ধরনের ভুল তথ্য মানুষকে নিজের ঘুম নিয়ে ভুল ধারণা দিতে পারে। বিশেষ করে অনিদ্রার মতো সমস্যায় ভুগছেন এমন কেউ যদি ট্র্যাকার দেখে মনে করেন যে তার ঘুম স্বাভাবিক, তাহলে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন নাও মনে করতে পারেন। এতে প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে গবেষকরা বলছেন, ঘুমের ট্র্যাকার পুরোপুরি অকার্যকর নয়। একজন মানুষ কতক্ষণ ঘুমাচ্ছেন এবং তার ঘুমের সময়সূচি কতটা নিয়মিত—এসব বিষয়ে ডিভাইসগুলো বেশ ভালো ধারণা দিতে পারে।

তবে শুধু ট্র্যাকার দেখানো সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে ঘুম থেকে ওঠার পর নিজেকে কেমন লাগছে, সেটিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞরা ঘুমের ট্র্যাকারের পাশাপাশি একটি ঘুমের ডায়েরি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানে প্রতিদিন কতক্ষণ ঘুম হয়েছে, সকালে কতটা সতেজ লাগছে এবং রাতে দীর্ঘ সময় জেগে থাকার কথা মনে আছে কি না—এসব লিখে রাখা যেতে পারে।

গবেষকদের মূল বক্তব্য হলো, ঘুমের মান শুধু সংখ্যায় বিচার করা যায় না। ট্র্যাকার থেকে পাওয়া তথ্যের পাশাপাশি নিজের অনুভূতি ও ঘুমের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার