Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা

বিজ্ঞাপন

ভয়ংকর রূপে আসছে ডেঙ্গু। আগামী মাসের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে খোদ স্বাস্থ্য বিভাগ। একই অভিমত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের। তারা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে যারা, এবার তাদের মধ্যে মৃত্যুহার বেশি বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। আবার রাজধানীর চেয়ে ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হার বেশি।

অর্থাৎ রাজধানীসহ সারাদেশেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। পাশাপাশি হামের প্রাদুর্ভাব আগে থেকে চলছে। ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমমিশ খাচ্ছেন।

এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু জ্বরে ২ জনের মৃত্যু এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৯০ জন। হামে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১১১ জন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল, শিশু হাসপাতালসহ সকল সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মিনিটে মিনিটে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীরা আসছে। হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তির জন্য আর কোন বেড নেই। বেশিরভাগেরই প্রয়োজন হচ্ছে আইসিইউর সাপোর্ট। কিন্তু আইসিইউর বেড পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

ডেঙ্গু রোগ হয় এডিস মশা কামড়ালে। এ বিষয়টি প্রায় সকলের জানা। এডিস মশা কোথায় বংশ বিস্তার করে তা-ও অনেকের জানা। এডিস মশার বংশ বিস্তার কমাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবং জনসচেতনতা অভাবে দেশব্যাপী এডিসের বিস্তার ঘটেছে। ঢাকার বাইরে এবার ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি।

ঢাকার বাইরে থেকে বেশির ভাগ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে আসছে। ঢাকার বাইরে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু ও হামের রোগীদের ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে।

ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ যা যা করণীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই ভাবে দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের একার পক্ষে এডিস মশা নিধন করা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি জনগণকে মশা নিধন কার্যক্রমে এগিয়ে আসতে। পাড়া-মহল্লায় মশা নিধনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এতে ডেঙ্গু অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে তারা জানান।

নিপসমের কিটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ছারোয়ার বলেন, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এবছর ঢাকার বাইরে বেশি হচ্ছে। সময়মতো এডিস মশা নিধন এবং স্থায়ী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম না নেওয়ার কারণে রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত এডিস মশা ছড়িয়ে পড়ছে।

আগে সিটি করপোরেশন কেন্দ্রিক ছিল এডিস মশার বংশ বিস্তার। এখান থেকে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল নির্মূল করা হলে ঢাকার বাইরে বিস্তার রোধ করা সম্ভব হতো। ঢাকার বাইরে উপজেলা-পৌরসভাগুলোও মশা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদসহ সকল স্তরের জনগণকে মশা নিধনে সম্পৃক্ত করা গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে তিনি জানান।

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার রাখতে হবে। একাধিকবার যাদের ডেঙ্গু হয়েছিল তারা যদি ডেঙ্গুতে আবার আক্রান্ত হয়, এক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। উপসর্গ ভিত্তিক চিকিত্সা সেবা দিতে হবে।

জ্বর, মাথাব্যথা, সমস্ত শরীর ব্যথা, খাওয়ার রুচি নেই-এমন উপসর্গ দেখা দিলে ডেঙ্গু এনএস-ওয়ান পরীক্ষা করাতে হবে। পজিটিভ হলে ডেঙ্গু জ্বরের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশু, গর্ভবতী মা, বয়স্ক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে প্রথমে ব্লাড প্রেশার ঠিক আছে কিনা সেটা দেখতে হবে। ব্লাড প্রেশার কমে গেলে বা অন্য কোন সমস্যা দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। এছাড়া আইসিইউ নিয়ে বা ভর্তি নিয়ে ছোটাছুটি করার প্রয়োজন নাই। ডেঙ্গু বা হামের চিকিৎসা সকল হাসপাতালের বহির্বিভাগে করা সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, হামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে। মৃত্যুর হারও কমে গেছে। কিন্তু হামের পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি চিকিত্সা সেবাকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছে। যারা ডেঙ্গু জ্বরের পূর্বে একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছে তাদের ঝুঁকি বেশি।

যারা প্রথমবার আক্রান্ত হয়েছে তাদের ৯০ ভাগই দ্রুত সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। এ বছর ডেঙ্গু গ্রামাঞ্চলে অর্থাৎ ঢাকার বাইরে বেশি হওয়ার বিষয়টি তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। মশা নিধন কার্যক্রম রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে দেয়া এবং এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার