বিজ্ঞাপন
মন্দিরে পূজা দিলেই সালমানের ‘সাত খুন মাফ’, কে দিলেন এমন শর্ত?
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
১৯৯৮ সালের ঘটনা। সেই সময় রাজস্থানের কঙ্কানি গ্রামে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে বিতর্কে জড়ান বলিউডের 'ভাইজান'খ্যাত অভিনেতা সালমান খান। সেই সময় বলিউড সুপারস্টারের বিরুদ্ধে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে। দুই দশক আগের সেই ঘটনার পর থেকেই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নিশানায় সালমান খান। একাধিকবার বলিউডের ভাইজানকে খুনের হুমকি দিয়ে খবরের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই।
সেই উপদ্রব আবারও বেড়েছে। '২৪ সালে গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলি চালানো হয়। বিদেশে সালমানের বন্ধু-গায়কের বাড়িতে হামলা করা হয়। তারপর সালমান-ঘনিষ্ঠ বাবা সিদ্দিকীর খুন থেকে শুরু করে নতুন করে অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত, টাইগার শ্রফদের টার্গেট করা— একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে ভাইজানকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বিষ্ণোই গ্যাং। যার জেরে ওয়াই ক্যাটাগরির পাশাপাশি সালমান খানের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
এর মধ্যে দুবাই থেকে দুই কোটি রুপি খরচ করে বুলেটপ্রুফ গাড়িও এনেছেন সালমান খান। বুলেটপ্রুফ কাঁচে মুড়েছেন গ্যালাক্সির বারান্দা। শুটিং ছাড়া গতিবিধিতেও রাশ টানতে হয়েছে এ অভিনেতাকে। কিন্তু সারাজীবন কি এভাবে প্রাণভয়ে বেড়াতে হবে? কী করলে বিষ্ণোইদের কাছ থেকে মুক্তি পাবেন সালমান খান?
এবার সেই নিদান দিল রাজস্থানের বিষ্ণোই সম্প্রদায়। যারা কৃষ্ণসার হরিণকে দেবতাজ্ঞানে পূজা করেন। লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কাকা ভাইজানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এক মোক্ষম উপায় বাতলে দেন।
এ বিষয়ে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কাকা রমেশ বিষ্ণোই বলেন,তিনি কোনো ধরনের সহিংসতাকে সমর্থন করেন না। বহুকাল ধরেই গ্যাংয়ের সবাইকে সতর্ক করে আসছেন। তিনি বলেন, 'সালমান বা তার ঘনিষ্ঠ কারও ওপর হামলা কিংবা হত্যাকে আমি সমর্থন করি না। আসলে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ জমে রয়েছে এবং এর সমাধান হওয়া উচিত। সালমান যদি আমাদের মন্দিরে পূজা দিয়ে ক্ষমা চাইতেন, তাহলে বিষয়টি অনেক আগেই মিটে যেত।'
কাকা রমেশ বিষ্ণোই বলেন, বিষ্ণোইরা মনে করেন— কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা করে গর্হিত অপরাধ করেছেন সালমান খান, যা কিনা বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের আচারবিধির বিরুদ্ধাচরণ। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের থেকে মুক্তি চাইলে সালমানকে অবশ্যই রাজস্থানের বিকানিরে অবস্থিত মুক্তিধাম মুকামে যেতে হবে।
তিনি বলেন, এ মন্দির বিষ্ণোইদের সব থেকে পবিত্র ধর্মীয় স্থান। এই একই নিদান বহু আগে দিয়েছিলেন ‘অল ইন্ডিয়া বিষ্ণোই সমাজ’-এর সম্পাদক হনুমানরাম বিষ্ণোই। কিন্তু শোনেননি ভাইজান!
অন্যদিকে সালমান খানের বাবা সেলিম খানের আশঙ্কা— এই মন্দিরে পূজা দিতে গেলে সালমানের ওপর হামলা হতে পারে। এ আশঙ্কায় লরেন্সের কাকা রমেশ বিষ্ণোই জানিয়েছেন— 'আমি ব্যক্তিগতভাবে সালমানের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিচ্ছি। এটা অনেক দিন ধরে চলছে। এ অধ্যায়ের অবসান হওয়া উচিত। একটা ক্ষমা প্রার্থনাই তো যথেষ্ট।'
অন্যদিকে আবার ক্ষমা চাইলেই আইনি জটিলতায় পড়তে হবে খোদ ভাইজানকেই। কারণ ২০১৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় সালমানকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন নিম্ন আদালত। যদিও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রাজস্থান হাইকোর্টের দ্বারস্থও হন অভিনেতা। মামলাটি বর্তমানে সেখানেই বিচারাধীন।
এদিকে সেলিম খান বলেন, যে ছেলে ছোট থেকে একটা আরশোলা মারতে পারেনি, সে কীভাবে হরিণ মারবে? তাই ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।