বিজ্ঞাপন
আদালত প্রাঙ্গণে পরীমনিকে ঘিরে হট্টগোল, সাংবাদিককে খামচি দেওয়ার অভিযোগ
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
বিজ্ঞাপন
ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ঘিরে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের মারধর এবং লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যাওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছেন অন্তত দুই সাংবাদিক। এ ছাড়া পরীমনির বিরুদ্ধে এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং আরেক সাংবাদিকের হাতে খামচি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের অভিযোগ, জামিন নিতে আদালতে হাজির হওয়ার সময় পরীমনির সঙ্গে প্রায় ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। তারা পরীমনির গাড়ির আশপাশে থাকা আইনজীবী, সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের সরিয়ে দিতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে কয়েকজনকে মারধরও করা হয়। এতে এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যায়।
এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের হামলার শিকার হন সাংবাদিক আশিকুজ্জামান ও আব্দুল্লাহ আল কাউছার। আশিকুজ্জামানের পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। অন্যদিকে কাউছারের কাঁধ ও হাতে আঘাত লাগে। এ ছাড়া আশিকুজ্জামানের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
পরে আহত দুই সাংবাদিককে আদালতসংলগ্ন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক মাহমুদ তাদের চিকিৎসা দেন।
এ ঘটনায় অন্য গণমাধ্যমকর্মীরাও নিরাপত্তাকর্মীদের দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। সমকালের প্রতিবেদক রবিউল হোসেনের অভিযোগ, পরীমনি তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন দাবি করেছেন, পরীমনি তার হাতে খামচি দিয়েছেন।
ঘটনার সময় ঢাকা জেলার কোর্ট পরিদর্শক কামাল উদ্দীনসহ কোর্ট পুলিশের একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে আহত সাংবাদিকরা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক ও আইনজীবীরা।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একজন আসামি কীভাবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে প্রবেশ করে বিচারপ্রার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এমন আচরণের সুযোগ পেলেন? পুলিশের উপস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটলেও কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আদালতের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের। ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের আদালতে প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঘটনার পর পরীমনির আইনজীবীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে এলে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবি, নিরাপত্তাকর্মীদের হামলা এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় গত বুধবার (৪ নভেম্বর) পরীমনির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়ে শুনানি শেষে জামিন পান তিনি। এদিন সকালে প্রায় ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে আদালতে উপস্থিত হন এই চিত্রনায়িকা।