Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

বিনোদন

‘যে পদে আগ্রহই নেই, তা না পাওয়ার অভিযোগ কেন’, বিএনপিকে নিয়ে ন্যান্সি

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

‘যে পদে আগ্রহই নেই, তা না পাওয়ার অভিযোগ কেন’, বিএনপিকে নিয়ে ন্যান্সি

বিজ্ঞাপন

‘যে পদে আগ্রহই নেই, তা না পাওয়ার অভিযোগ কেন’, বিএনপির প্রতি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে এমন প্রশ্ন তুলেছেন সংগীতশিল্পী ন্যান্সি। দলটির সমর্থক হলেও সংসদ সদস্য হওয়া কিংবা সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষা তার নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে বিএনপির প্রতি ভালোবাসা, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও শিল্পীদের মূল্যায়ন নিয়ে কথা বলেন ন্যান্সি। একই সঙ্গে দল ক্ষমতায় আসার পর তাকে কোনো পদে মূল্যায়ন করা হয়নি, এমন আলোচনা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এই শিল্পী।

ন্যান্সি জানান, তার মা মরহুমা জ্যোৎস্না হক নেত্রকোনা জেলা জাসাসের সহসভাপতি ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের মধ্যে ধানের শীষের কথা শুনে বড় হয়েছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে নিজের রাজনৈতিক বোধ ও উপলব্ধি থেকেও বিএনপির প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছে।

বিএনপির সমর্থক হওয়া মানেই রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া কিংবা সংসদ সদস্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকা নয় উল্লেখ করে ন্যান্সি বলেন, যোগ্যতা বিবেচনা করে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি তা পালন করতে আগ্রহী। তবে সেটি হতে হবে নিজের যোগ্যতায়, কোনো তদবিরের মাধ্যমে নয়।

রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে জীবনের ১৪টি বছর হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে এই শিল্পী বলেন, সেই সময় আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তবে থেমে থাকেননি তিনি। এখন বাংলাদেশের মানুষ তাকে একজন শিল্পী হিসেবে চেনে ও ভালোবাসে, এটিও তার বড় প্রাপ্তি।

নিজের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্ব পাওয়ার কথাও তুলে ধরেন ন্যান্সি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতার বিচারক এবং ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্য ছিলেন তিনি। এসব দায়িত্ব পাওয়ার জন্য কাউকে ফোন বা অনুরোধ করতে হয়নি বলেও জানান তিনি।

বিএনপি সংস্কৃতিবান্ধব নয় কিংবা দলটি শিল্পীদের মূল্যায়ন করে না, এমন বক্তব্যের সঙ্গেও একমত নন ন্যান্সি। নিজের স্ট্যাটাসে বিএনপির বিভিন্ন শাসনামলে নেওয়া সাংস্কৃতিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় ‘নতুন কুঁড়ি’, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারের মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে জাতীয় নাট্যশালা, জাতীয় চারুকলা গ্যালারি এবং জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র উদ্বোধনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসএসএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের আমন্ত্রণ পাওয়ার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন ন্যান্সি। তিনি জানান, অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগেই সম্মানীর পুরো অর্থ তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে বালামের সঙ্গে গান পরিবেশন করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের সমস্যা ও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

বিএনপির সমর্থক হলেও দলটির সমালোচনা করেন বলে জানান ন্যান্সি। কোনো রাজনৈতিক দলই ভুলের ঊর্ধ্বে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে ঘৃণা করতেও রাজি নন তিনি।

শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে তাদের কাজ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের আহ্বান জানান এই সংগীতশিল্পী। অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিল্পীদের বঞ্চিত করা যেমন অন্যায় ছিল, তেমনি পছন্দের দল ক্ষমতায় থাকায় বিশেষ সুবিধা প্রত্যাশা করাও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার