বিজ্ঞাপন
কী নিয়ে মায়ের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, কেন দূরে ছিলেন পপি?
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
বিজ্ঞাপন
ঢালিউডের একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপির মা মরিয়ম বেগম আর নেই। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মগবাজারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি।
মায়ের মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর আবারও আলোচনায় এসেছে পপির সঙ্গে তার পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ।একসময় পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়া এই অভিনেত্রীর সঙ্গে কেন তৈরি হয়েছিল দূরত্ব? কেনই বা মায়ের বিরুদ্ধে স্বামী-সন্তানকে অসম্মান করা এবং সংসার ভাঙার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি?
পপির পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। বাবার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ছোট বোন ফিরোজা পারভীন। পরে পপিও মা, ভাই-বোনদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলেন।
তবে জমি নিয়ে বিরোধের আড়ালে উঠে আসে অর্থনৈতিক লেনদেন, পারিবারিক দায়িত্ব, বিয়ে এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কথাও।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পপি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে নিজের উপার্জনের অর্থ দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ করেছেন তিনি। অভিনয়জীবনের আয়-ব্যয়ের হিসাবও একসময় মা-বাবার হাতেই ছিল বলে জানান অভিনেত্রী। তার অভিযোগ, নিজের উপার্জিত অর্থ ও সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল পরিবারের সদস্যদের।
পপির ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তিনি জানতে পারেন, তার ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা অর্থ অন্য একটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মা-বাবার কাছে জানতে চেয়েও সন্তোষজনক উত্তর পাননি বলে দাবি করেন তিনি। বরং প্রশ্ন তোলার পর পরিবারের কাছেই শত্রু হয়ে যান বলে অভিযোগ পপির।
এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেছিলেন, পরিবারের জন্য নিজের ভবিষ্যৎ, ভালো লাগা ও ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছুই বিসর্জন দিয়েছেন তিনি। তার অভিযোগ ছিল, যত দিন পরিবারের সদস্যদের আর্থিকভাবে সহায়তা করেছেন, তত দিন তাদের কাছে প্রিয় ছিলেন। কিন্তু নিজের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
তবে পপির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তার মা মরিয়ম বেগম। তার বক্তব্য ছিল, মেয়েকে প্রতিষ্ঠিত করতে মা-বাবারও অবদান রয়েছে। পপির উপার্জন ও পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট মতবিরোধ ছিল।
পপির সঙ্গে তার মা ও ভাই-বোনদের বিরোধের অন্যতম কারণ ছিল খুলনার শিববাড়ি এলাকার জমি। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পপির বাবার ১১ কাঠা জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এর মধ্যে ছয় কাঠা জমি নিজের নামে লিখে নেওয়ার বিষয়ে পপির মা ও বোন আপত্তি জানান।
পপির দাবি ছিল, বাবার কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ওই ছয় কাঠা জমি কিনেছিলেন তিনি। অন্যদিকে তার মা ও বোনের অভিযোগ, জমিটি বাবার সম্পত্তি হওয়ায় সেখানে অন্য সন্তানদেরও অধিকার রয়েছে। জমি কীভাবে হস্তান্তর করা হয়েছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ছিল পরস্পরবিরোধী।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পপি এ বিরোধ নিয়ে মুখ খোলার পর পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মা-বোনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, নিজের উপার্জনের অর্থ ও সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেতে প্রয়োজনে আইনি লড়াই করবেন।
জমি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি পপির ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও পরিবারের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে জানান অভিনেত্রী। ২০২০ সালের নভেম্বরে আদনানকে বিয়ে করেন পপি। তবে সে সময় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। পরে ২০২৫ সালে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিয়ে এবং মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আনেন।
পপি জানিয়েছিলেন, পরিবারের অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে বাসায় কাজি ডেকে বিয়ে করলেও মাকে সেখানে ডাকেননি তিনি। তার দাবি, মা চাইতেন না তিনি বিয়ে করে সংসারী হন।
অভিনেত্রীর অভিযোগ, বিয়ের পর স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমে নেতিবাচকভাবে কথা বলেছেন। তিনি চেয়েছিলেন, উপযুক্ত সময় বুঝে নিজের সংসার নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলবেন।
কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তার ব্যক্তিগত বিষয় সামনে এনে স্বামী-সন্তানকে অসম্মান করেছেন বলে অভিযোগ করেন পপি।
এ প্রসঙ্গেই মায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, ‘নিজের সবটা দিয়ে পরিবারকে দেখেছি। সেই মা আমার স্বামী ও সন্তান নিয়ে মিডিয়ায় ছোট করেছে।’
পপির ভাষ্য, তার স্বামী কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। সেই মানুষটিকে অসম্মান করার পাশাপাশি শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে নানা ধরনের কথা বলা এবং তাকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
এসব ঘটনার কথা বলতে গিয়ে পপি বলেছিলেন, ‘সংসার নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এটা পৃথিবীর কোনো মা তা করতে পারে না।’
অভিনেত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, তার ক্ষোভের জায়গা শুধু জমি বা অর্থনৈতিক বিরোধে সীমাবদ্ধ ছিল না। নিজের বিয়ে, স্বামী ও সন্তানকে ঘিরে পরিবারের আচরণও তাঁর কাছে বড় অভিযোগের বিষয় হয়ে উঠেছিল।
মায়ের সঙ্গে কি আর সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি?
২০২৫ সালে পপির বক্তব্য ও তার মা-বোনের পাল্টা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পারিবারিক বিরোধ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। তবে বিরোধের সমাধান হয়েছিল কি না, কিংবা পরবর্তী সময়ে মা-মেয়ের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
মরিয়ম বেগমও সে সময় মেয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, তিনি চান তার সব সন্তান মিলেমিশে থাকুক। পপির সঙ্গে সম্পর্কের সমাধান হোক, সেটিও চেয়েছিলেন তিনি।
অর্থাৎ, প্রকাশ্যে দুই পক্ষের বক্তব্যে বিরোধ থাকলেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি মরিয়ম বেগম।
কিন্তু সেই বিরোধের পরিণতি কী হয়েছিল, মা-মেয়ের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়েছিল কি না, তা অজানাই রয়ে গেছে।
মরিয়ম বেগমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পপি ও তার পরিবারের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অর্থ, সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছিল, তার সব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। মায়ের মৃত্যুর পর পপির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে নতুন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফলে তাদের সম্পর্কের শেষ অধ্যায় ঠিক কীভাবে শেষ হয়েছিল, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।