বিজ্ঞাপন
‘আমি মুসলিম, কিন্তু নামাজের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।’
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ এএম
বিজ্ঞাপন
বলিউডের প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি বরাবরই ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
এবার নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, মুসলিম হিসেবে ঈদ, উর্দু ভাষা ও ইসলামি খাবারের প্রতি তার ভালোবাসা রয়েছে।
তবে তিনি নামাজ পড়েন না। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক থাকা উচিত নয় বলেও মনে করেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে নিজের পরিবার, বেড়ে ওঠা ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কথা বলেন শাবানা। তিনি জানান, তার বাবা বিশিষ্ট কবি ও গীতিকার কাইফি আজমি ছিলেন নাস্তিক।
অন্যদিকে, মা শওকত আজমি কিছুটা ধর্মাচরণ করলেও ধর্মকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতেন না। ফলে ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে পারিবারিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তার জীবনে বেশি প্রভাব ফেলেছে।
নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গে শাবানা জানান, তিনি মাঝেমধ্যে ‘মাশাল্লাহ’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করেন। তবে এসব শব্দের ব্যবহার নিয়ে স্বামী জাভেদ আখতার প্রশ্ন তুলেছেন। শাবানার ভাষ্য অনুযায়ী, জাভেদ তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি বারবার এসব শব্দ কেন বলেন।
কেউ যদি সব সময় তাকে ‘প্রভুজি কি মরজি’ বলে, তাহলে তার কেমন লাগবে, সেই প্রশ্নও করেছিলেন জাভেদ। তবে শাবানার মতে, ‘মাশাল্লাহ’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ তার মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ।
নিজের ধর্মীয় পরিচয় স্পষ্ট করে শাবানা বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি মুসলিম। আমার ঈদ ভালো লাগে, উর্দু ভাষা ভালো লাগে, খাবারও ভালো লাগে। কিন্তু আমরা নামাজ পড়ি না এবং ধর্মের সঙ্গে আমাদের সেই অর্থে কোনও সম্পর্ক নেই।’
স্বামী জাভেদ আখতারের অবস্থান প্রসঙ্গে শাবানা বলেন, তিনি একজন ‘কট্টর নাস্তিক’। ধর্মকে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক থাকা উচিত নয়।’
ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন শাবানা ও জাভেদ। অভিনেত্রীর ভাষ্য, দুই সম্প্রদায়ের অসহিষ্ণু ও চরমপন্থী মানুষেরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে চান না। একদিকে তাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি হয়, অন্যদিকে নানা অভিযোগও ওঠে।
শাবানার মতে, এই বিরোধকে শুধু হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং এটি উদারপন্থী ও অসহিষ্ণু মানসিকতার মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব।
তাই ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে উদারপন্থী হিন্দু-মুসলিমদের অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।