Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

বিনোদন

ছাদখোলা বাসে সিনেমার প্রচারণা, টিকিট কিনে দেখলেন মোটে ২ জন

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

ছাদখোলা বাসে সিনেমার প্রচারণা, টিকিট কিনে দেখলেন মোটে ২ জন

বিজ্ঞাপন

পূজা উপলক্ষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া নতুন সিনেমাগুলোর অবস্থা বেশ শোচনীয়। মুক্তির আগে ব্যাপক প্রচার চালালেও হলের টিকিট কাউন্টারে দর্শকদের খুঁজে পাওয়া দায়। 

চলতি পূজায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া চার সিনেমার মাধ্য ‘স্নেহের বন্ধন’ ও ‘কাটপিস’ অন্যতম। দুটি ছবিই বর্তমানে লায়ন সিনেমাসে চলছে। কিন্তু মুক্তির প্রথম দিন থেকেই ছবি দুটি ভুগছে তীব্র দর্শকসংকটে।

জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে ‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমার এক সন্ধ্যার প্রদর্শনীতে বিক্রি হওয়া মোট ৩৭টি টিকিটের মধ্যে ৩৫টি টিকিটই কিনেছিলেন ছবিটির প্রচারে আসা প্রযোজক, পরিচালক, নায়ক-নায়িকা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অর্থাৎ সাধারণ দর্শক টিকিট কেটেছেন মোটে দুজন। 

অন্যদিকে, একই দিনে ‘কাটপিস’ সিনেমার কপালে জুটেছে মাত্র আটটি টিকিট বিক্রির সৌভাগ্য। 

এ প্রসঙ্গে লায়ন সিনেমাসের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা আবদুল খালেক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মুক্তির প্রথম দিনে সিনেমা দুটির একাধিক প্রদর্শনীতে কোনো দর্শকই আসেননি। এমনকি শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ছবি দুটির দুটি শোতে একটি টিকিটও বিক্রি হয়নি। 

যদিও ‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমাটি মুক্তির পর থেকে ফেসবুকে বিভিন্ন পেজে চলছে প্রচারণার ঝড়। কোথাও দাবি করা হচ্ছে—সিনেমা দেখে দর্শকরা কাঁদতে কাঁদতে হল থেকে বের হচ্ছেন, আবার কোথাও এটিকে সেরা ‘ফ্যামিলি ড্রামা’ হিসেবে জাহির করা হচ্ছে। 

কিন্তু ভার্চুয়াল জগতের এই কান্নাকাটি ও প্রচারের উত্তাপের সঙ্গে বাস্তব হলের টিকিটের হিসাবের দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনো মিল নেই। 

হলের মালিক মির্জা আবদুল খালেকের মতে, ছবি মুক্তির আগে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে এমন প্রচারণা চালিয়েও যদি দর্শক না টানে, তবে সেই উদ্যোগের কোনো মানে হয় না। 

তিনি জানান, ছবি না চালালে তার অন্তত বিদ্যুৎ ও এসির খরচগুলো বেঁচে যেত। 

হলের মালিক আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘সারা দিন শোতে কোনো টিকিট বিক্রি নাই। শনিবার সন্ধ্যায় ৩৭টি টিকিট বিক্রি হয়েছে, যার ৩৫টি সিনেমার মানুষদের! এমনটা করে দেশের সিনেমা তো আগাবে না। ভালো সিনেমা বানাতে হবে। এরপর প্রচারণা করলে সিনেমা এমনিতেই দেখতে আসবে মানুষ। সবচেয়ে বড় বিষয়, সিনেমা দেখার পর মুখে মুখে প্রচার না হলেও হয় না।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের সিনেমা চালানোর অনুরোধ যখন আমাদের করা হয়, তখন একটা কথাই বলি—সিনেমা চালানোর আগে পোস্টার ছাপানোসহ প্রচারণার নানা কাজে তো টাকা-পয়সা খরচ হয়। 

এই ধরনের সিনেমা বানিয়ে একধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। অনুরোধ না করলে আমারও ছবিটি চালাতে হয় না। এতে বিদ্যুৎ, এসির খরচসহ আরও নানা খরচ থেকে বেঁচে যাই। কিন্তু কে শোনে কার কথা! তারা যদি ছবি না চালাত, আমারও লোকসান একটু কম হতো।’ 

উল্লেখ্য, ‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন জয় চৌধুরী ও মৌ খান। কামরুজ্জামান পরিচালিত এই ছবিটির প্রযোজক শাহ আলম। মুক্তির আগে ঢাকঢোল পিটিয়ে একেবারে ছাদখোলা বাসে চড়ে ঢাকা শহরে জমকালো প্রচারণা চালিয়েছিলেন ছবির নায়ক-নায়িকা ও প্রযোজক। কিন্তু মুক্তির পর হলগুলোর বাস্তব চিত্র ঠিক যেন তার উলটো। 

শুধু লায়ন সিনেমাসেই নয়, দেশের আরও ১৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘স্নেহের বন্ধন’। তবে অন্য হলগুলোর অবস্থাও তেমন সন্তোষজনক নয়। সেখানেও দর্শক উপস্থিতি তলানিতে। 

একই দশা মুক্তি পাওয়া ‘কাটপিস’ সিনেমারও। সব মিলিয়ে পূজার মৌসুমেও রূপালি পর্দার এই বেহাল দশা চলচ্চিত্র পাড়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার