বিজ্ঞাপন
‘রকস্টার’ সেটে সাবিলার পরকীয়া, বিস্ফোরক তথ্য জানালেন প্রেমিকা
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
বিজ্ঞাপন
ঢাকাই শোবিজে অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে ঘিরে দাম্পত্য জীবনের নানা গুঞ্জনের মধ্যে এবার আলোচনায় চিত্রগ্রাহক আবদুল মামুন। সাবিলার সঙ্গে মামুনের প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছেন তার কথিত প্রেমিকা তিশা।
তার দাবি, এই সম্পর্কের কারণেই ভেঙে গেছে মামুনের সঙ্গে দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম এবং বিয়ের পরিকল্পনা।
তিশার অভিযোগ, দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের নির্ধারিত তারিখের কয়েক দিন আগে হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন আবদুল মামুন।
কেন বিয়ে করতে চান না, তা জানতে চাইলেও তার কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাননি বলে দাবি তিশার। পরে সাবিলা নূরের সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানতে পারেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে সাবিলা নূর, তার স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহের কিংবা চিত্রগ্রাহক আবদুল মামুনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, সাবিলা অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার পরপরই তাদের বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। গত ১৫ মে বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মাত্র কয়েক দিন আগে মামুন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।
গণমাধ্যমকে তিশা বলেন, ‘যা শুনেছেন সব সত্য। সাবিলা নূরের কারণেই আমার দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম এবং বিয়ে ভেঙে গেছে।
‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পর আমাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। দুই পরিবার থেকে বিয়ের সব আয়োজন করা হয়েছিল।
কিন্তু আবদুল মামুন হঠাৎ করে জানায়, সে বিয়ে করতে চায় না। পরবর্তীতে জানতে পারি, সাবিলা নূরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে আবদুল মামুন।’
বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান মামুন
তিশার দাবি, বিয়ে না করার সিদ্ধান্তের কারণ জানতে আবদুল মামুনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এমনকি পরিবারের সদস্যরাও মামুনকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো প্রচেষ্টাতেই তিনি রাজি হননি।
তিশা আরও দাবি করেন, সাবিলা নূরের সঙ্গে মামুনের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই জানেন। বিষয়টি জানার পর থেকে মামুনের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সাত বছরের সম্পর্কের এমন পরিণতি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে তিশা বলেন, ‘ওরা দুজন আমার সঙ্গে কাজটি ভালো করেনি। সাবিলা নূর আমাদের বিষয় সব জানতেন। কিন্তু সে মেয়ে হয়েও একটিবার আরেকটি মেয়ের কথা ভাবেনি। আমার বড় ক্ষতি করল। আবদুল মামুন একজন তারকা পেয়ে আমাকে ভুলে গেছে।’
তিশার বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের বিয়ে আরও আগেই হওয়ার কথা ছিল। তবে শাকিব খানের সঙ্গে কাজের সুযোগ থাকায় ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ের জন্য বিয়ের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়।
শাকিব খানের মতো তারকার সঙ্গে কাজ করার গুরুত্ব বিবেচনা করেই তিনি বিয়ের তারিখ পরিবর্তনে সম্মতি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত তার জীবনে বড় আঘাত হয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিনি।
তিশা জানান, পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবলেও তিনি তাতে সম্মতি দেননি। তবে বিয়ের ঠিক আগে কেন মামুন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন, সে বিষয়ে এখনো সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাননি বলে অভিযোগ তার।
সাবিলা নূরের দাম্পত্য জীবন নিয়েও আলোচনা
অন্যদিকে, সাবিলা নূর ও তার স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়েও সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৯ সালে বিয়ে করেন তারা।
তবে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং তারা আলাদা থাকছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও দাম্পত্য জীবনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সাবিলা কিংবা নেহাল- কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবিলা নূর ও শাকিব খানকে ঘিরেও নানা আলোচনা চলছে। ‘তাণ্ডব’ ও ‘রকস্টার’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সূত্র ধরে তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামনে এসেছে।
তবে শাকিব খানের সঙ্গে সাবিলার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা এর সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবনের কোনো যোগসূত্র রয়েছে- এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এসব বক্তব্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং ঘিরে অভিযোগ
তিশার দাবি, ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ের সময়ই সাবিলা নূর ও আবদুল মামুনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে সিনেমাটির পরিচালক আজমান রুশোর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। পরে গণমাধ্যমকে এক বার্তায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানান।
তবে তিশার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় ঘটনাটির পুরো প্রেক্ষাপট এখনো স্পষ্ট নয়।