বিজ্ঞাপন
নায়িকা থেকে যৌনকর্মী পরে নির্মম মৃত্যু, কে এই অভিনেত্রী?
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
বিজ্ঞাপন
একসময় বলিউডের জনপ্রিয় নায়িকাদের তালিকায় ছিল ভিমির নাম। সুনীল দত্ত ও রাজকুমারের মতো তারকাদের সঙ্গে অভিনয় করে অল্প সময়েই দর্শকের নজর কেড়েছিলেন ভিমি। ১৯৬৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হামরাজ’ ছবির সাফল্য তাকে এনে দিয়েছিল পরিচিতি ও অর্থ।
অথচ সেই খ্যাতি বেশিদিন ধরে রাখতে পারেননি এই অভিনেত্রী। জীবনের শেষ অধ্যায়ে আর্থিক সংকট, ব্যক্তিগত অস্থিরতা ও নিঃসঙ্গতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে।
ভিমির জীবনের গল্প বলিউডের চাকচিক্যের আড়ালে থাকা কঠিন বাস্তবতার একটি উদাহরণ। একসময় যার অভিনয় ও সৌন্দর্য নিয়ে আলোচনা হতো, জীবনের শেষ সময়ে সেই অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষও ছিল না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই সৌন্দর্য, নাচ ও গানের প্রতি আগ্রহের কারণে পরিচিতি ছিল ভিমির। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর ব্যবসায়ী শিব প্যাটেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সংসারে দুই সন্তানের জন্মও হয়।
তবে বিয়ের পর তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় একটি চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে। সেখানে প্রখ্যাত পরিচালক বি আর চোপড়ার নজরে আসেন তিনি। এরপরই খুলে যায় বলিউডে কাজ করার সুযোগ।
১৯৬৭ সালে সুনীল দত্তের বিপরীতে ‘হামরাজ’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় ভিমির। প্রথম ছবিই বক্স অফিসে সাফল্য পাওয়ায় দ্রুত পরিচিতি অর্জন করেন তিনি।
ছবিতে রাজকুমারের সঙ্গেও তার অভিনয় দর্শকের প্রশংসা পায়। এর মাধ্যমে বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করেন এই অভিনেত্রী।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ভিমির পারিশ্রমিক ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, একেকটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি প্রায় তিন লাখ টাকা নিতেন। সে সময়ের হিসাবে এই অঙ্ক তাকে বলিউডের উচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া নায়িকাদের একজন হিসেবে পরিচিতি দিয়েছিল।
তবে সাফল্যের সেই সময় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। একের পর এক ছবির ব্যর্থতা তার ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে আর্থিক অবস্থাও দুর্বল হতে থাকে।
ব্যক্তিগত জীবনেও দেখা দেয় টানাপোড়েন। স্বামী শিব প্যাটেলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে প্রযোজক জলির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ভিমি।
কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তন তার জীবনে স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি। অভিনয়ের সুযোগ কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক সংকটও বাড়তে থাকে।
যে চলচ্চিত্রজগৎ একসময় তাকে খ্যাতি ও অর্থ দিয়েছিল, সেই জগতের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। ধীরে ধীরে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন একসময়ের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
১৯৭৭ সালের আগস্টে মুম্বাইয়ের একটি ছোট ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় ভিমির মরদেহ। মৃত্যুর আগে তিনি চরম অবসাদ ও একাকিত্বের মধ্যে ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তার মৃত্যুর পর শেষকৃত্য নিয়েও তৈরি হয় জটিল পরিস্থিতি। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, শেষ বিদায়ের সময় পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ না থাকায় তার মরদেহ একটি ঠেলাগাড়িতে করে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
যে অভিনেত্রী একসময় বড় পর্দায় নিজের উপস্থিতি দিয়ে দর্শকের মন জয় করেছিলেন, তার জীবনের এমন পরিণতি বলিউডের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে আছে।
ভিমির গল্প মনে করিয়ে দেয়, তারকাখ্যাতি ও সাফল্য সব সময় ব্যক্তিগত জীবনের নিরাপত্তা কিংবা শেষ বয়সে সঙ্গ পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।