Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

বিনোদন

ক্যামেরা ছেড়ে যুদ্ধের ময়দানে, কেন ছুটে গিয়েছিলেন নানা পাটেকর?

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

ক্যামেরা ছেড়ে যুদ্ধের ময়দানে, কেন ছুটে গিয়েছিলেন নানা পাটেকর?

বিজ্ঞাপন

অভিনয়ের জগতে তিনি ছিলেন এক অনন্য নাম। শক্তিশালী অভিনয়, স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব আর সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। তবে পর্দার বাইরেও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক আলাদা পরিচয় ছিল তার। তিনি বিশ্বনাথ ‘নানা’ পাটেকর।

৭৫ বছর বয়সে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ভারতের গোয়ায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাকে বাঁচাতে টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

তবে নানা পাটেকরের গল্প শুধু একজন অভিনেতার গল্প নয়। থিয়েটার থেকে মারাঠি ও হিন্দি সিনেমা—সব জায়গাতেই নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখে যাওয়া এই মানুষটির জীবনে ছিল দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও মানুষের জন্য কিছু করার গভীর আকাঙ্ক্ষা।

নানা পাটেকর বিশ্বাস করতেন, অভিনয় মানে শুধু পর্দায় উপস্থিত হওয়া নয়; চরিত্রকে সত্যিকার অর্থে ধারণ করতে হয়। কোনো চরিত্রের জন্য যতটা পরিশ্রম প্রয়োজন, তা করতে তিনি কখনো পিছপা হননি।

আরও পড়ুন
এই বিশ্বাস থেকেই ১৯৯১ সালের ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ সিনেমায় একজন আর্মি কমান্ডোর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি প্রায় তিন বছর সামরিক প্রশিক্ষণ নেন। চরিত্রটি বাস্তবভাবে ফুটিয়ে তুলতে কোনো শর্টকাট নিতে চাননি তিনি। মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেন নানা।

সেই প্রশিক্ষণই তাকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়।

অভিনয় থেকে সত্যিকারের সেনাজীবনে

১৯৯৯ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হয় কার্গিল যুদ্ধ। তখন নানা পাটেকরের ক্যারিয়ারও ছিল শীর্ষে। কিন্তু দেশের সীমান্তে যুদ্ধ শুরু হলে শুধু পর্দায় সেনার চরিত্রে অভিনয় করেই সন্তুষ্ট থাকেননি তিনি।

তিনি সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাকে জানানো হয়, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন শুধু প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

এরপর তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের কাছে আবেদন করেন নানা। তিনি জানান, তার অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ রয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি একটি পদকও পেয়েছেন।

অনুমতি পাওয়ার পর নিজের জমজমাট অভিনয় ক্যারিয়ার সাময়িকভাবে থামিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কুইক রিঅ্যাকশন টিমে যোগ দেন তিনি।

কার্গিল যুদ্ধের সময় প্রায় ৬০ দিন সেনাদের সঙ্গে কাটান নানা পাটেকর। শ্রীনগর, দ্রাস ও লেহ—বিভিন্ন এলাকায় সেনাদের সঙ্গে থেকে তাদের জীবন কাছ থেকে দেখেন তিনি।

আরও পড়ুন
পাহাড়ি এলাকার কঠিন পরিবেশ, প্রচণ্ড ঠান্ডা ও দুর্গম উচ্চতায় সেনাদের প্রতিদিনের সংগ্রাম তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।

বিভিন্ন সময়ে সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে নানা জানিয়েছিলেন, সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সময় তার ওজন ছিল প্রায় ৭৬ কেজি। ফিরে আসার সময় তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৫৬ কেজিতে।

‘বড় পর্দার নায়ক’ নয়, মানুষেরও নায়ক

নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর চলচ্চিত্র অঙ্গন, রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গনের বহু মানুষ তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতার কথা স্মরণ করেছেন তারা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও নানা পাটেকরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে মোদি বলেন, খুব কম অভিনেতার মধ্যেই নানা পাটেকরের মতো তীব্রতা, স্বাতন্ত্র্য ও আলাদা উপস্থিতি দেখা গেছে।

আরও পড়ুন
মোদি আরও বলেন, প্রতিটি চরিত্রে নানা অসাধারণ বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতা নিয়ে এসেছেন। তার অভিনীত চরিত্রগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণ করবে।

নানা পাটেকরের স্পষ্টবাদী স্বভাবের কথাও স্মরণ করেন মোদি। নিজের বিশ্বাস ও মতামত প্রকাশে তিনি কখনো দ্বিধা করতেন না—এ কারণেও মানুষের কাছে তিনি আলাদা ছিলেন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার