বিজ্ঞাপন
মৃত্যুর তিন ঘণ্টা আগে বন্ধুকে যে বার্তা পাঠিয়েছিলেন নানা পাটেকর
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
রাত তখন প্রায় আড়াইটা। অসুস্থ বোধ করায় এক বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকর। কিন্তু সেই বার্তার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন হিন্দি ও মারাঠি সিনেমার এই অভিনেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে মালহার পাটেকর। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, খবরটি সত্য। আমি এখন পুনেতে আছি, গোয়ার উদ্দেশে রওনা হচ্ছি। পরে বিস্তারিত বিবৃতি দেব।’
তিনি জানান, নানা পাটেকরের শেষকৃত্য পুনেতে অনুষ্ঠিত হবে।
নানা পাটেকরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আশিস শেলার। মারাঠি থিয়েটার এবং মারাঠি ও হিন্দি সিনেমায় নানা পাটেকারের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বন্ধুকে শেষ বার্তা
মৃত্যুর সময় গোয়ায় নিজ বাড়িতে ছিলেন নানা পাটেকর। মণিপাল হাসপাতাল, গোয়ার অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. শেখর সালকার জানান, রাত আড়াইটার দিকে অসুস্থ বোধ করার কথা জানিয়ে এক বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন অভিনেতা।
তবে গভীর রাত হওয়ায় তার বন্ধু সময়মতো বার্তাটি দেখতে পারেননি বলে জানান চিকিৎসক।
ডা. সালকার বলেন, বন্ধুটি ভোর প্রায় ৪টার দিকে নানা পাটেকরের বাড়িতে পৌঁছে তাকে অতিরিক্ত ঘামতে ও শ্বাস নিতে কষ্ট করতে দেখেন। পরে তার কেয়ারটেকার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসক দল বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান, নানা পাটেকর কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। সেখানেই শুরু হয় সিপিআর। এরপর সিপিআর চালু রেখেই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ডা. সালকার জানান, নানা পাটেকরকে ভোর প্রায় ৪টা ২০ মিনিটে হাসপাতালে আনা হয় এবং চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
নানা পাটেকরের আগে থেকে হৃদ্রোগের কোনো ইতিহাস ছিল কি না, সে বিষয়ে হাসপাতালের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য ছিল না বলেও জানান তিনি। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা হলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ তখনো জানা যায়নি।
হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হওয়ায় ঘটনাটিকে মেডিকো-লিগ্যাল কেস (এমএলসি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর নানা পাটেকরের মরদেহ গোয়া মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ডা. সালকার।