বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
‘জাদুকর’ গানের মিউজিক ভিডিওতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে পরিচয়। এরপর বন্ধুত্ব, প্রেম এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ে। প্রায় এক দশকের পথচলায় প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মনিরা হাশেমের সম্পর্ক একসময় ছিল আলোচিত।
কিন্তু সেই সম্পর্কের শেষটা হলো বিচ্ছেদে। গত রোববার রাতে আলাদা ফেসবুক পোস্টে দুজনই জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আর বৈবাহিক সম্পর্কে নেই।
তবে তাদের বিচ্ছেদের ঘোষণা হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না বলেই জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠজনেরা। তাদের ভাষ্য, সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল আরও আগে।
সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া জীবনযাপন, কমে যাওয়া একসঙ্গে সময় কাটানো এবং প্রীতমের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন- সবকিছু মিলিয়েই ধীরে ধীরে বদলে যায় তাদের সম্পর্কের সমীকরণ।
২০১৭ সালে ‘জাদুকর’ গানের শুটিংয়ে প্রীতম ও শেহতাজের পরিচয়। কাজের সূত্রে যোগাযোগ বাড়ার পর সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। পরে প্রীতম জানিয়েছিলেন, ওই মিউজিক ভিডিওর শুটিংয়ের পরই শেহতাজকে বিয়ের কথা বলেছিলেন তিনি।
প্রায় পাঁচ বছরের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গলের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের আয়োজনে দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা উপস্থিত ছিলেন। এমনকি বিয়ের পোশাকের নকশাও নিজেই করেছিলেন শেহতাজ।
বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই একসঙ্গে দেখা গেছে তাদের। কখনো ঘোরাঘুরি, কখনো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, আবার কখনো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পাশাপাশি উপস্থিত হয়েছেন তারা।
২০২৩ সালে নিজেদের বাসায় ওঠার পর সংসারের পাশাপাশি দুজনের কাজও চলছিল। বাইরে থেকে তখন তাদের দাম্পত্যে বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে প্রীতমের ক্যারিয়ারে আসে বড় পরিবর্তন। কোক স্টুডিও বাংলার গানসহ নিজের সংগীতচর্চার বাইরে ‘তুফান’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি বড় পরিসরে দর্শকের কাছে পরিচিতি পান।
সিনেমাটির গান ও অভিনয় তাকে নতুন শ্রোতা-দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়। এরপর বাড়তে থাকে স্টেজ শো, দেশ-বিদেশে যাতায়াত এবং কাজের ব্যস্ততা। ‘বরবাদ’-এর ‘চাঁদমামা’ ও ‘দ্বিধা’, ‘প্রিন্স’-এর ‘জ্বালা জ্বালা’সহ একাধিক গান তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।
ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, এই ব্যস্ততার সময়টাতেই প্রীতম-শেহতাজের সম্পর্কে পরিবর্তন স্পষ্ট হতে শুরু করে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে।
একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রীতমের আচরণেও পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন তাদের কাছের কেউ কেউ। বিষয়টি শেহতাজের জন্য সহজ ছিল না। এর প্রভাব পড়ে তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়ায়।
ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়ও দুজনের মধ্যে একাধিকবার কথা-কাটাকাটি হয়েছে। এমনকি বন্ধুদের উপস্থিতিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার পর ধীরে ধীরে তাদের দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে।
তবে সম্পর্ক ভাঙনের আগে তা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন দুজনই। কাছের মানুষদের কেউ কেউ আশা করেছিলেন, সময়ের সঙ্গে তাদের ভুল বোঝাবুঝি কেটে যেতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার আগ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিতে অবশ্য অন্য চিত্রই দেখা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও জেফার রহমান ও রাফসান সাবাবের বিয়ের অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রীতম ও শেহতাজ।
ফলে বাইরে তাদের একসঙ্গে দেখা গেলেও ব্যক্তিগত জীবনে সম্পর্কের সমীকরণ তখন অনেকটাই বদলে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠজনেরা।
বিয়ের আগে গান ও অভিনয়ে সক্রিয় থাকলেও বিয়ের পর শেহতাজ নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছিলেন। অন্যদিকে প্রীতমের ব্যস্ততা ক্রমেই বাড়ছিল সংগীতকে ঘিরে।
বিচ্ছেদের ঘোষণার প্রায় দুই মাস আগে শেহতাজ কানাডায় যান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। দেশে ফেরার পরই তাদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসে।
নিজেদের আলাদা পোস্টে প্রীতম ও শেহতাজ দুজনেই পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বাড়তি আলোচনা না করার জন্যও সবার প্রতি অনুরোধ করেছেন।
দীর্ঘ পরিচয়, প্রেম ও প্রায় চার বছরের দাম্পত্যের পর এখন দুজনই নিজেদের মতো করে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাইছেন।
ঘনিষ্ঠজনদের মতে, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের পর দুজনই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। শেহতাজ আবার গান ও অভিনয়ে ফিরতে চান। অন্যদিকে প্রীতমও নতুন সংগীতের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।