Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

বিনোদন

বাতাসে ভাসছে ফারুকী-তিশার বিচ্ছেদের খবর

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪১ এএম

বাতাসে ভাসছে ফারুকী-তিশার বিচ্ছেদের খবর

বিজ্ঞাপন

ক্যামেরার সামনে যাদের রসায়ন বরাবরই মুগ্ধ করেছে দর্শকদের, ক্যামেরার পেছনেও তাদের বোঝাপড়া ছিল দারুণ ঈর্ষণীয়। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে আলাদা থাকছেন তারকা দম্পতি অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী! অনেক দিন ধরেই তাদের দাম্পত্য জীবন ভালো যাচ্ছে না বলে খবর। দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া কিছু মানসিক দূরত্ব এবং মতবিরোধের কারণেই নাকি এই দূরত্বের সূচনা। গত কয়েক দিন ধরেই নাটকপাড়ায় এমনটাই শোনা যাচ্ছে। গত সোমবার থেকে সামাজিক মাধ্যমে তুমুলভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ফারুকী ও তিশার সংসার ভাঙনের গুঞ্জন।

তিশা-ফারুকীর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, পারস্পরিক বোঝাপড়ার পার্থক্যের কারণে তারা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তারা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে গেছে এই তারকা দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের খবর। কয়েকজন অভিনয়শিল্পীও এ খবরে সিলমোহর দিয়েছেন।

আরেকটি তথ্য বলছে, বর্তমানে মেয়েসহ মায়ের বাসায় থাকছেন তিশা। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে তিশা-ফারুকীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে, যা শেষপর্যন্ত বিচ্ছেদে গড়াচ্ছে।

শোবিজপাড়ায় কান পাতলেই এখন শোনা যাচ্ছে এমন গুঞ্জন, যা ভক্তদের মনে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্ন। দাম্পত্য জীবনের প্রায় দেড় দশক একসঙ্গে কাটানোর পর আলাদা থাকছেন দেশের এই জনপ্রিয় তারকা অভিনেত্রী ও নির্মাতা। তাদের দীর্ঘদিনের গোছানো সংসারে এখন চলছে বিচ্ছেদের জোরালো গুঞ্জন।

সম্পর্কের এই টানাপোড়েন কিংবা আলাদা থাকার খবর নিয়ে তিশা নীরব থাকলেও দূর দেশ থেকে পরিচালক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী রূপালী বাংলাদেশকে জানান, এই খবরটি একদম মিথ্যে।

অস্ট্রেলিয়ায় তিশার নামে থাকা একটি বাড়ি বিক্রি নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধের জেরে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ নিয়ে ফারুকী বলেন, ‘এই যে অস্ট্রেলিয়ায় যে বাড়িগুলো, এগুলো তাড়াতাড়ি আমাকে দেওয়া হোক। কামাই করে তো আর সেখানে বাড়ি কিনতে পারব না, যদি এভাবে ফাও পাওয়া যায়। এই গুজববাজরা যেন দ্রুতই বাড়িগুলো আমাকে দিয়ে দেয়।’ ফের কবে কাজে ফিরবেন সেই উত্তর ফারুকীর থেকে মিলেনি। অনেক দিন ধরেই নির্মাণ থেকে দূরে এই নির্মাতা।

ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। দেখতে দেখতে এরই মধ্যে তারা বিবাহিত জীবনের দেড় দশক পার করেছেন। তাদের প্রেমের আসল গল্পটা শুরু হয়েছিল শুটিংয়ে। একবার ফারুকী নিজেই প্রকাশ করেছিলেন যে, জনপ্রিয় নাটক ‘ক্যারাম’-এর শুটিং করার সময় তিশার সঙ্গে তার সম্পর্কের গভীরতা তৈরি হয়। এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছর লোকচক্ষুর আড়ালে নিজেদের প্রেমকে লালন করেন তারা। ২০১০ সালের ১৬ জুলাই দুই পরিবারের সম্মতি ও শোবিজের তারকাদের উপস্থিতিতে ধুমধাম করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এই যুগল।

নিজেদের সম্পর্ককে নতুন ও সতেজ রাখতে এই দম্পতি বরাবরই ছিলেন ব্যতিক্রমী। নিজেদের ১৩তম বিবাহবার্ষিকীতে (২০২৩ সালে) তারা এক চমৎকার কায়দায় ভক্তদের চমকে দিয়েছিলেন। বিয়ের দিন তিশা যে অফ-হোয়াইট জামদানি শাড়ি পরেছিলেন এবং ফারুকী যা পরেছিলেন, ঠিক সেই তেরো বছর আগের পোশাকেই তারা নতুন করে ফটোশুট করেছিলেন। ঢাকার কাছের একটি শুটিং স্পটে গিয়ে পুরোনো সেই সোনালি স্মৃতির রোমন্থন করে ফারুকী ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘মানুষ একই, পোশাকও একই, শুধু সময়টা এগিয়ে গেছে...।’

২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি ফারুকী ও তিশার দাম্পত্য জীবন পূর্ণতা পায় এক নতুন পরিচয়ে। তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় একমাত্র কন্যাসন্তান ইলহাম নুসরাত ফারুকী। তিশার সঙ্গে থাকছে তাদের একমাত্র কন্যা। বর্তমানে ফারুকীকে ভুলে নতুন করে কাজে ফিরতে মরিয়া তিশা! অভিনেত্রী কাজের জন্য বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অফিসেও ছুটছেন বলে চারিদিকে ফিসফাস শোনা যাচ্ছে। এই মূহূর্তে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন ফারুকী। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ করার পর থেকেই ভিনদেশে বেশি থাকছেন তিনি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকদের অনেক জনপ্রিয় নাটক উপহার দিয়েছেন তিশা। কয়েকটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পেয়েছেন। তিশা অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘টেলিভিশন’, ‘অস্তিত্ব’, ‘ডুব’, ‘হালদা’, ‘মায়াবতী’, ‘ফাগুন হাওয়ায়’, ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘শনিবার বিকেল’। দীর্ঘ সময় ধরে সিনেমাটির মুক্তি থমকে আছে। ‘হালদা’ ও ‘অস্তিত্ব’ সিনেমার জন্য নুসরাত ইমরোজ তিশা পেয়েছেন দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

ফারুকী একাধারে পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার। নিজস্ব ঢঙে নাটক, চলচ্চিত্র নির্মাণের তাগিদে তৈরি করেছেন ‘ছবিয়াল’ নামে একটি সংগঠন। ১৯৯৯ সালে মিডিয়ায় পথচলা শুরু করেন ফারুকী। ছোট পর্দায় অসাধারণ কিছু টেলিফিল্ম ও সিরিয়াল নির্মাণ করেছেন তিনি। ‘স্পার্টাকাস ৭১’, ‘চড়–ইভাতি’, ‘কানামাছি’ ও ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি’র মতো নন্দিত টেলিফিল্ম তৈরি করেছেন ফারুকী। পাশাপাশি ‘একান্নবর্তী’, ‘সিক্সটিনাইন’ ও ‘৪২০’ তার নির্মিত জনপ্রিয় কিছু সিরিয়াল। আনিসুল হকের ‘আয়েশামঙ্গল’ অবলম্বনে ফারুকী নির্মিত ‘আয়েশা’ নাটকটিও পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তা।

সিনেমায় ফারুকীর সূচনা ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। সিনেমাটি বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। ব্যাপক সাড়া জাগায় তার নির্মিত ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ সিনেমাটিও। ফারুকীর প্রতিটি সিনেমাই অসংখ্য চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি বাহবা কুড়িয়েছে। তবে প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও কম হয়নি। বিশেষত ‘ডুব: নো বেড অব রোজেস’ সিনেমাটি সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জীবনের একটি অংশের সঙ্গে মিল থাকায় সে সময় তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার