বিজ্ঞাপন
বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন কিরণ রাও
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
বিজ্ঞাপন
সময় বদলানোর সঙ্গে বদলে গেছে মানুষের প্রেম, সম্পর্ক এবং অনুভূতি প্রকাশের ধরনও। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের তরুণদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগের অনেক সামাজিক বিধিনিষেধ এখন আর ততটা কার্যকর নয়।
বিয়ের আগে মানসিক কিংবা শারীরিক ঘনিষ্ঠতাকেও অনেকেই এখন আগের মতো অস্বাভাবিকভাবে দেখেন না। সম্পর্কের এই পরিবর্তনকেই সময়ের স্বাভাবিক বিবর্তন হিসেবে দেখছেন পরিচালক কিরণ রাও।
‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’-এর প্রচারণায় এক সাক্ষাৎকারে নতুন প্রজন্মের প্রেম ও সম্পর্কের ধরন নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন কিরণ।
তার পরিচালিত গল্পে তরুণদের সম্পর্কের যে ভিন্ন বাস্তবতা উঠে এসেছে, সেই প্রসঙ্গেই তাকে প্রশ্ন করা হয়- বর্তমান প্রজন্ম কি প্রেমের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাধীন, নাকি কিছুটা হালকা মনোভাবাপন্ন?
কিরণের উত্তর অবশ্য স্পষ্ট। তিনি তরুণদের ‘হালকা’ না বলে বরং ‘স্বাধীনচেতা’ হিসেবেই দেখতে চান। তার মতে, আগের প্রজন্মের তুলনায় বর্তমান সময়ের তরুণরা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ।
কিরণ বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের প্রজন্মের তুলনায় এখনকার তরুণদের মধ্যে অনেক বেশি স্বাধীনতা। নিজেদের প্রকাশ করার ধরনও বদলে গেছে। পৃথিবীটাও এখন অনেকটা আলাদা। আমরা সেই পরিবর্তনটাই গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছি।’
বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, দুজন মানুষ একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন, কিন্তু সেই আকর্ষণকে তারা সবসময় প্রচলিত কোনো সম্পর্কের নাম দিতে চান না। আর সেখান থেকেই তৈরি হতে পারে নানা জটিলতা, দ্বিধা কিংবা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি।
কিরণের ভাষায়, ‘দুজন তরুণ-তরুণী একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট। তারা কোনো সম্পর্কে আবদ্ধ নয়। এরপর তারা কী করবে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কিছু সিদ্ধান্তের কারণে হঠাৎ নানা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমার মনে হয়, এর মধ্যেই মজাটা লুকিয়ে আছে।’
বর্তমান সময়ের সঙ্গে নিজের প্রজন্মের প্রেমের পার্থক্যও তুলে ধরেছেন কিরণ। তার মতে, একটা সময়ে সমাজ নির্দিষ্ট কিছু সম্পর্ককেই স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করত।
বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক যেমন সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না, তেমনই বিয়ের পরেও নিজের সঙ্গীর বাইরে অন্য কারও সঙ্গে মানসিক ঘনিষ্ঠতাকেও সহজভাবে নেওয়া হতো না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সময়ে মানুষের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ধরনের সম্পর্কেরই প্রত্যাশা করা হতো। বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক তো ছিলই না, এমনকি বিয়ের পরেও সেই সম্পর্কের বাইরে অন্য কারও সঙ্গে মানসিকভাবে জড়িয়ে পড়াকে সহজভাবে দেখা হতো না। এখন সেই পরিস্থিতি আর নেই।’
কিরণের মতে, সম্পর্কের এই পরিবর্তনকে শুধু নৈতিকতার পুরোনো মাপকাঠিতে বিচার না করে সময়ের পরিবর্তনের অংশ হিসেবেও দেখা প্রয়োজন।
নতুন প্রজন্ম নিজেদের অনুভূতি, আকর্ষণ ও সম্পর্ককে আগের তুলনায় ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। আর সেই বদলে যাওয়া মানসিকতা ও সম্পর্কের জটিলতাই নিজের গল্পে তুলে ধরতে আগ্রহী তিনি।
তার কাজের মধ্য দিয়ে তাই শুধু প্রেমের প্রচলিত গল্প নয়, বরং সম্পর্কের নতুন ভাষা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তাকেও তুলে ধরতে চান কিরণ রাও।