বিজ্ঞাপন
শুটিং করতে গিয়ে নেকড়ের আক্রমণে অভিনেত্রী, কী ঘটেছিল সেই রাতে?
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
বিজ্ঞাপন
অভিনয়ের প্রয়োজনে তারকাদের নানা ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে অ্যালিসিয়া ভিকান্দরের ‘আনা কারেনিনা’ সিনেমার শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ছিল বেশ ব্যতিক্রমী।
মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি তাপমাত্রা, দুর্গম এলাকায় থাকার ব্যবস্থা, গরম পানির সংকট- সবকিছুর সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়েছিল তাকে। এমনকি টানা পাঁচ দিন গোসলও করতে পারেননি এই অভিনেত্রী।
জো রাইট পরিচালিত সিনেমাটিতে কিটির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অ্যালিসিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন কিরা নাইটলি, জুডি ল ও ডমহল গ্লিসন।
সিনেমাটির বেশির ভাগ দৃশ্য ইংল্যান্ডের শেপারটন স্টুডিওতে ধারণ করা হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শীতকালীন দৃশ্যের জন্য রাশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেতে হয়েছিল শুটিং দলকে।
সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে আরও উত্তরের একটি দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে দীর্ঘ ট্রেনযাত্রার পর কয়েক ঘণ্টা বাসে এবং পরে বরফের ওপর হোভারক্রাফটে যেতে হয়েছিল তাদের।
সেখানে পাঁচ রাত থাকতে হয়েছিল ছোট একটি কেবিনে। কিন্তু সেই কেবিনে ছিল না গরম পানির ব্যবস্থা। ঘুমানোর জন্যও বিছানার বদলে ব্যবহার করতে হয়েছিল বেঞ্চ।
দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিকান্দরের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘দীর্ঘ ট্রেনযাত্রার পর কয়েক ঘণ্টা বাসে এবং পরে বরফের ওপর হোভারক্রাফটে করে আমরা প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছাই।
সেখানে পাঁচ দিন থাকতে হয়েছিল একটি ছোট কেবিনে। কিন্তু সেই কেবিনে ছিল না গরম পানির ব্যবস্থা। বিছানার বদলে বেঞ্চেই ঘুমাতে হয়েছিল, যা শীতের মধ্যে আরও ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি করেছিল।’
শুধু ঠান্ডা নয়, শুটিংয়ের জায়গাটিতে ছিল বন্য প্রাণীরও আনাগোনা। বিশেষ করে নেকড়ের ব্যাপারে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল পুরো ইউনিটকে।
অ্যালিসিয়া জানান, শুটিংয়ের আশপাশে তিনি নেকড়ে ও ভালুক ঘুরতে দেখেছেন। তার ও ডমহল গ্লিসনের নিরাপত্তার জন্য রুশ নিরাপত্তারক্ষীরাও সঙ্গে ছিলেন।
অভিনেত্রী বলেন, ‘শুটিংয়ের প্রয়োজনে সেখানে টিমকে পাঁচ রাত থাকতে হয়। রাতে কটেজের আশপাশে নেকড়ের ডাক শুনতাম। শুটিংয়ে এমন অভিজ্ঞতা হবে ভাবিনি। শুটিংয়ের কল শিটেও সতর্ক করে লেখা ছিল, ‘নেকড়ে থেকে সাবধান’। তারপরও একদিন দুর্ঘটনা ঘটে গেল।’
সেই সতর্কবার্তার পরও এক রাতে ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় শুটিং দলের এক সদস্যকে। অল্প সময়ের জন্য কক্ষের বাইরে বের হলে একদল নেকড়ে তাকে ঘিরে ফেলে।
পরে তাকে চিৎকার করতে এবং দরজায় আঘাত করতে শোনা যায়। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত এগিয়ে এসে নেকড়েগুলোকে সরিয়ে দেন। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে শুটিং দলের একজন সদস্য কোল্ড ইনজুরিতেও আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে পরে জানান ভিকান্দর।
তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও এই অভিজ্ঞতাকে কেবল ভয়ংকর হিসেবে দেখেননি অ্যালিসিয়া। বরং তাঁর কাছে এটি ছিল জীবনের অন্যতম বড় অ্যাডভেঞ্চার।
দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিজ্ঞতাকে ‘জীবনের সেরা অ্যাডভেঞ্জার’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। তবে একই সঙ্গে মজা করে বলেছিলেন, ‘এমন অভিজ্ঞতা আমি জীবনে দ্বিতীয়বার নিতে চাই না।’
শুটিংয়ের সময় তীব্র ঠান্ডার প্রভাব কতটা ছিল, সেটিও নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়েছেন অ্যালিসিয়া। মাইনাস ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রায় শরীরের উন্মুক্ত অংশে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সমস্যা তৈরি হচ্ছিল।
অভিনেত্রী বলেন,‘ গ্লাভসের বাইরে হাত রাখলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আঙুলের স্বাভাবিক নড়াচড়া ব্যাহত হয়ে যেত। হাত নাড়াতেই পারতাম না। জানুয়ারি মাসের ওই শুটিংয়ে দিনের আলোও ছিল খুব সীমিত। সূর্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য দেখা যেত। এটি ছিল আমার জীবনের অন্যতম অসাধারণ অ্যাডভেঞ্চার।’
রাশিয়ার কিঝি দ্বীপ এলাকায় ধারণ করা হয়েছিল সিনেমাটির শীতকালীন দৃশ্যগুলো। এই শুটিং শুধু অভিনেতাদের জন্য নয়, পুরো নির্মাণ দলের জন্যই ছিল কঠিন।
সিনেমাটির চিত্রগ্রাহক সিমাস ম্যাকগারভে পরবর্তী সময়ে এই শুটিংকে তার করা সবচেয়ে কঠিন শুটিংগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন।
১৯৮৮ সালের ৩ অক্টোবর জন্ম অ্যালিসিয়া ভিকান্দরের। ‘দ্য ড্যানিশ গার্ল’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার পুরস্কার পান।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা চরিত্রে অভিনয় করলেও ‘আনা কারেনিনা’র সেই দুর্গম শুটিং তার কাছে আজও আলাদা একটি অভিজ্ঞতা- যেখানে অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁকে সামলাতে হয়েছিল মাইনাস ৪০ ডিগ্রির ঠান্ডা, গরম পানির অভাব এবং কাছাকাছি ঘুরে বেড়ানো নেকড়ের আতঙ্ক।