বিজ্ঞাপন
হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন কৌতুক অভিনেতা আসিফ ইকবাল
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
এদিকে তার আকস্মিক মৃত্যুতে পাকিস্তানের বিনোদন ও নাট্যাঙ্গনে শোয়ের ছায়া নেমেছে। ইন্ডাস্ট্রির সহশিল্পী, ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংস্কৃতিমনা ব্যক্তিরা তাদের শোক প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে কয়েক দশক জুড়ে তার বিস্তৃত ক্যারিয়ারের প্রতি শ্রদ্ধাও জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসিফ ইকবাল কয়েক প্রজন্মের দর্শকের কাছে কেবল একজন জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতাই ছিলেন না, একইসঙ্গে ছিলেন পাঞ্জাবি মঞ্চ কৌতুক অভিনেতার এক আদর্শ মুখ। তার প্রাণবন্ত ও আইকনিক অভিনয়ের জন্য ‘ফিনা’ চরিত্র এবং ডাকনামের মাধ্যমে নিজস্ব এক স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছিলেন তিনি।
তার অভিনয় প্রায়ই হাস্যরসাত্মক দুষ্টুমি. দ্রুতগতির সংলাপ ও সহশিল্পীদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে করা হতো। সময় ও উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে হাস্যরস তৈরির ক্ষমতা দেশটির লাইভ থিয়েটার সার্কিটে এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্বেও পরিণত করেছিল এ অভিনেতাকে।
পাঞ্জাবেরে গুজরানওয়ালায় জন্ম আসিফ ইকবালের। তার বাবা ছিলেন একজন রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার। ১৯৮৮ সালে তার বাবা এবং ২০০০ সালে তার মায়ের মৃত্যু হয়। শোবিজে অভিষেকের আগে ক্রিকেটের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছিল তার। ওয়াপদা (WAPDA) ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেছেন। পরবর্তীতে পেশাগত যাত্রা লাহোরের থিয়েটারের দিকে নিয়ে যায় তাকে।
আশির দশকে লাহোরের তমাশীল থিয়েটারে যোগ দেন আসিফ ইকবাল। এখানে শুরুতে প্রোগ্রাম ম্যানেজার এবং সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে আলফালাহ থিয়েটারে যান, সেখানে ১৯৯৬ সালের দিকে একজন মঞ্চ অভিনেতা হিসেবে দর্শকের সামনে আত্মপ্রকাশ করেন। তারপর সময়ের পরিক্রমায় একজন অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে কাজ করতে থাকেন। যা তাকে এক সময় প্রজন্মের অংশ করে তোলেন এবং দেশটির পাঞ্জাবি মঞ্চ-কৌতুক ঐতিহ্যকে বিস্তৃত করেন তিনি।
আসিফ ইকবাল দেশটির সোহেল আহমেদ, নাসিম ভিকি, তারিক টেডি, সরদার কামাল এবং ইফতিখার ঠাকুরসহ অন্যান্য প্রখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তার মূল কেন্দ্র থিয়েটার হলেও টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রেও বেশ দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০১৫ সালে এক্সপ্রেস নিউজে ‘সিয়াসী থিয়েটার’, ২০১৫ সালে ৯২ নিউজে ‘হদ্দ-ই আদব’, ২০১৭ সালে লাহোর নিউজে ‘উচ’ ও ২০২০ সালে সুনো নিউজে ‘তঞ্জ-ও-মাজা’র মতো টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অভিনয় করেছেন।
তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে―‘রান মুরিদ’ (২০১৩), ‘নো টেনশন’ (২০১৩), ‘চল মেরা পুত ২’ (২০২০), ‘চল মেরা পুত ৩’(২০২১) এবং ‘ড্রামে আলে’ (২০২৪)।