বিজ্ঞাপন
‘এই লুকটাও আমার জীবনের একটা গল্প’, ক্যান্সার আক্রান্ত সামিয়া
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
বিজ্ঞাপন
পাঁচ বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন এক সময়ের জনপ্রিয় উপস্থাপিকা সামিয়া আফরিন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর একসময় শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়েছিল।
ফিরেছিলেন স্বাভাবিক জীবনেও। তবে সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। চার মাস আগে আবারও শরীরে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার শনাক্ত হয় তার।
এবার সামিয়ার শরীরে ধরা পড়ে ওভারিয়ান ক্যান্সার।
দ্রুত অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছে তাকে। চিকিৎসকেরা আগেই জানিয়েছিলেন, কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়ে যেতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে ভেঙে না পড়ে কিছুদিন আগে নিজেই চুল ছোট করে নিয়েছিলেন তিনি।
এবার পুরোপুরি মাথা ন্যাড়া করে নিজের নতুন লুকের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন সামিয়া।
ছবির সঙ্গে লিখেছেন আত্মবিশ্বাসী এক বার্তা, যেখানে উঠে এসেছে কঠিন সময়কে গ্রহণ করার মানসিক শক্তির কথা।
সামিয়া লিখেন, ‘কখনো ভাবিনি, জীবনে আবার এমন একটা সময় আসবে—যখন আমার মাথাটা আবার পুরোপুরি বল্ড (টাক) হয়ে যাবে! ছোটবেলায় হয়তো এমন হয়েছিল, তখন সেটা নিয়ে ভাবারও বয়স ছিল না। কিন্তু বড় হয়ে, কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া এমনভাবে চুল হারানোর অভিজ্ঞতা হয়তো খুব কম মানুষেরই আসে।’
জীবনের কিছু পরিবর্তন যে ইচ্ছার বিরুদ্ধে এসেও মেনে নিতে হয়, সেটিই তুলে ধরেছেন সামিয়া।
তার মতে, সব পরিবর্তন সহজ হয় না।
তবে কঠিন বাস্তবতাকেও নিজের করে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে এক ধরনের শক্তি।
সামিয়ার উপলব্ধি, চুল থাকুক কিংবা না থাকুক, সৌন্দর্য শুধু আয়নায় দেখা যায় না। বরং নিজেকে নিজের মতো করে গ্রহণ করতে পারাটাই আসল সৌন্দর্য। তার নতুন এই রূপও তাই কেবল একটি পরিবর্তন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জীবনের কঠিন সময়, সাহস, গ্রহণযোগ্যতা ও নিজের প্রতি ভালোবাসার গল্প।
তিনি আরো লিখেন, ‘কিছু পরিবর্তন আমাদের জন্য সহজ নয়, কিন্তু আলিঙ্গন করতে হবে। আর আমি সেটাই করেছি—আলিঙ্গন করছি, গ্রহণ করছি এবং আমি আমার এই ভার্সনের মালিক। কারণ চুল থাকুক বা না থাকুক, সৌন্দর্য শুধু আয়নায় দেখা যায় না। আসল সৌন্দর্য হলো নিজেকে নিজের মতো করে গ্রহণ করতে পারা। এই লুক-টাও তাই আমার জীবনের একটা গল্প। একটি কঠিন গল্প, কিন্তু একই সঙ্গে সাহস, গ্রহণযোগ্যতা আর নিজের প্রতি ভালোবাসার গল্প।’
সবশেষে নিজের নতুন লুক নিয়ে সামিয়া লিখেছেন, ‘এই আমি বাল্ড (টাক), এবং নিজের এই রূপ নিয়ে কোনো সংকোচ নেই। আলহামদুলিল্লাহ, আমার জীবনের প্রতিটি রূপের জন্য। ইনশাআল্লাহ, এটাও একদিন কেটে যাবে।’