বিজ্ঞাপন
আগুন-ভূমিকম্পের ভয়, ১০০ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি ছাড়ছেন হলিউড অভিনেতা পিয়ার্স ব্রসনান
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩১ এএম
বিজ্ঞাপন
হলিউড অভিনেতা ও সাবেক ‘জেমস বন্ড’ তারকা পিয়ার্স ব্রসনান ২৬ বছর পর ক্যালিফোর্নিয়ার মালিবুতে থাকা তার বিলাসবহুল বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই সমুদ্রতীরবর্তী সম্পত্তি থেকে সরে যাওয়ার পেছনে রয়েছে দাবানল ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি। পাশাপাশি বিশাল বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের উচ্চ ব্যয়ও ব্রসনানের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
৭৩ বছর বয়সী ব্রসনান ও তার স্ত্রী কিলি শেই স্মিথ ২০০০ সালে মালিবুর ব্রড বিচ এলাকায় দুটি পাশের সম্পত্তি কিনেছিলেন। পরে সেখানে তারা বিশাল আবাসিক কম্পাউন্ড তৈরি করেন। প্রায় ২৬ বছর ধরে এই বাড়িই ছিল তাদের অন্যতম প্রধান আবাসস্থল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় বসবাসের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ বেড়েছে।
ব্রসনান জানিয়েছেন, তাদের বাড়িটি অতীতে কয়েকবার দাবানলের কাছাকাছি পড়লেও আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছে। তার ভাষায়, কয়েকবার আগুন থেকে বেঁচে যাওয়ার পর এখন মনে হচ্ছে সেখান থেকে সরে যাওয়ার সময় এসেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, সমুদ্রের কাছে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বসবাস করাও তাদের মধ্যে এক ধরনের ভয় তৈরি করে।
দাবানলের আশঙ্কা ব্রসনানের জন্য নতুন নয়। ২০১৫ সালে তার মালিবুর বাড়ির গ্যারেজে আগুন লাগে। ওই ঘটনায় আনুমানিক ১০ লাখ ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। আগুন গ্যারেজের পাশাপাশি ওপরের একটি শোবার ঘরেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই ঘটনায় ব্রসনান ও তার পরিবারের কেউ আহত হননি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালিবু ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ দাবানলের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় অনেক বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে ব্রসনানের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার বর্তমান সিদ্ধান্তে দাবানলের পাশাপাশি ভূমিকম্পের আশঙ্কাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়, বাড়িটি ধরে রাখার খরচও ব্রসনানের জন্য বড় চাপ হয়ে উঠেছে। অভিনেতা জানিয়েছেন, মালিবুর বিশাল বাড়িটির মর্টগেজ ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে ক্যারিয়ারের কিছু সময়ে তাকে এমন কাজও নিতে হয়েছে, যেগুলোর প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল না। অর্থের প্রয়োজন মেটাতে পছন্দের বাইরে গিয়ে কাজ করার বিষয়টি তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।
ব্রসনানের মালিবুর সম্পত্তিটির নাম ‘অর্কিড হাউস’। বাড়িটির নকশায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রভাব রয়েছে এবং এটি নির্মাণে এক দশকেরও বেশি সময় লেগেছিল। প্রায় ১২ হাজার ৫০০ বর্গফুটের মূল বাড়িতে সিনেমা দেখার কক্ষ, জিম, শিল্পচর্চার জায়গা, সংগীতের জন্য কক্ষ, স্পা ও নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার ওয়াইন সেলারসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।
ব্রসনান দম্পতি এর আগেও এই সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন। বাড়িটি একসময় মাসে ১ লাখ ২০ হাজার ডলারে ভাড়ার জন্যও দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২১ সালে বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এবার তারা মালিবুর বাড়ি ছেড়ে হাওয়াইয়ের কাউয়াই দ্বীপে থাকা তাদের অন্য বাড়িতে আরও বেশি সময় কাটানোর পরিকল্পনা করছেন।
মালিবুর প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও ব্রসনান এখন মনে করছেন, আগুন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং বাড়িটির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। ফলে ২৬ বছর পর প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের এই বিলাসবহুল বাড়ি থেকে তার সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
সূত্র: ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট