বিজ্ঞাপন
সালমান শাহ চলে যাবার ৩০ বছর, কি হয়েছিল সেদিন
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৫ এএম
বিজ্ঞাপন
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, এক শুক্রবারের সকালে ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ্ মাত্র ২৫ বছর বয়সে রহস্যজনকভাবে মারা যান। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্ম নেওয়া শহীদ চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন (সালমান শাহ) মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে ভক্তদের অন্তরে চিরস্থায়ী আসন তৈরি করে নিয়েছিলেন। তবে তার এই অকালমৃত্যুর প্রকৃত কারণ ৩০ বছর পরও রহস্যে ঘেরা এবং বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন।
মৃত্যুর আগের দিনের ঘটনা
মৃত্যুর আগের দিন এফডিসিতে ডাবিং চলাকালীন সালমান শাহ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরের খুনসুটি দেখে তার স্ত্রী সামিরা রেগে যান। সালমান ও পরিচালক বাদল খন্দকার তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও সামিরা কথা বলেননি। পরে রাত ১১টার দিকে পরিচালক বাদল খন্দকার সালমানকে তার নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় পৌঁছে দিয়ে বিদায় নেন।
সেই কালরাতের পরের সকাল
ঘটনার দিন সকাল সাতটায় সালমানের বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ছেলের সাথে দেখা করতে যান। কিন্তু দারোয়ান ও স্ত্রী সামিরা তাকে সালমানের ঘরে ঢুকতে দেননি। আয়কর ফাইলে সই করানোর কথা বললেও তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় এবং জানানো হয় সালমান ঘুমাচ্ছেন।
অপ্রত্যাশিত ফোন ও করুণ দৃশ্য
সকাল ১১টার দিকে সালমানের মা নীলা চৌধুরীর কাছে একটি ফোন আসে। দ্রুত ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে নীলা চৌধুরী দেখতে পান, সালমান খাটে উল্টো হয়ে শুয়ে আছেন এবং পারলারের কিছু মেয়ে তার হাত-পায়ে সরিষার তেল ডলছে। সালমানের হাত-পায়ের নখ নীল হয়ে গিয়েছিল।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও বিতর্ক
বাসা থেকে দ্রুত তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বললেও পরিবারের দাবি ছিল এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিবার হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ সেটিকে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
পরিচালকদের মতে, জীবনের শেষ দিনগুলোতে সালমান শাহ পারিবারিক টানাপোড়েন ও মানসিকভাবে বেশ চাপে ছিলেন। রহস্যের সমাধান না হলেও ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ বা ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো কালজীয় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সালমান শাহ আজও ভক্তদের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।