বিজ্ঞাপন
শতাধিক পুরুষের সামনে অন্তর্বাসের মতো পোশাকে শুটিং, মুখ খুললেন দিয়া
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩১ এএম
বিজ্ঞাপন
বলিউডে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নানা কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে অভিনেত্রী দিয়া মির্জাকে। এর মধ্যে কিছু অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তার শিল্পীসত্তাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। সম্প্রতি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের তেমনই এক ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন এই অভিনেত্রী।
২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ‘মুঝে তুমসে মহব্বত হ্যায়’ গানটির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে দিয়া জানান, সেখানে প্রায় একশো বা তারও বেশি পুরুষের সামনে তাকে অন্তর্বাসের মতো পোশাকে শুট করতে হয়েছিল। ক্যারিয়ারের সেই সময়ে এমন পরিস্থিতি তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না।
তবে ঘটনাটিকে শুধুই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেন না দিয়া। বরং তার মতে, সেই শুটিং তাকে নিজের শরীর সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী হতে এবং অভিনয়ের ক্ষেত্রে নিজের কিছু সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল।
দিয়ার ভাষ্য, ওই অভিজ্ঞতা তাকে এমনভাবে ‘মুক্ত’ করেছিল, যা তিনি আগে কখনো কল্পনা করেননি।
হায়দরাবাদের একটি রক্ষণশীল পরিবারে বেড়ে উঠেছেন দিয়া মির্জা। ২০০১ সালে ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। অল্প বয়সেই অভিনয়জগতে পা রাখলেও ক্যারিয়ারের শুরুটা খুব একটা মসৃণ ছিল না।
নিজের শরীর নিয়েও তখন খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না দিয়া। পরিবার ও সামাজিক পরিবেশ থেকে পাওয়া বিভিন্ন ধারণা এবং নিজের শরীর সম্পর্কে তৈরি হওয়া সংকোচ তার মধ্যেও ছিল।
ইমরান হাশমির সঙ্গে ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন দিয়া। ছবির ‘মুঝে তুমসে মহব্বত হ্যায়’ গানটির শুটিংয়ের সময়ই তাকে সেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সেটে বিপুলসংখ্যক পুরুষের উপস্থিতিতে তাকে প্রায় অন্তর্বাসের মতো পোশাক পরে শুট করতে হয়েছিল।
ক্যারিয়ারের সেই পর্যায়ে এমন দৃশ্যে অভিনয় করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে পুরো বিষয়টি সামলাতে তাকে সহযোগিতা করেছিল শুটিং সেটের পরিবেশ।
এই অভিজ্ঞতার জন্য কোরিওগ্রাফার বৈভবী মার্চেন্ট এবং পুরো শুটিং দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দিয়া। তার মতে, সেটে এমন একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, যার কারণে তিনি নিজের কাজের দিকে মনোযোগ দিতে পেরেছিলেন।
দিয়া মনে করেন, একজন শিল্পীর জন্য কাজের জায়গায় নিরাপত্তা ও সম্মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটে সেই পরিবেশ না থাকলে এ ধরনের দৃশ্যে কাজ করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে।
পুরোনো সেই অভিজ্ঞতার দিকে ফিরে তাকিয়ে দিয়া মনে করেন, ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। নিজের শরীর নিয়ে যে সংকোচ ও দ্বিধা ছিল, তা কাটিয়ে উঠতেও এই অভিজ্ঞতা তাকে সাহায্য করেছে।
তাই প্রায় দুই দশক আগের সেই শুটিংয়ের কথা মনে করলেও দিয়ার কাছে সেটি শুধু একটি কঠিন মুহূর্ত নয়; বরং নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং শিল্পী হিসেবে আরও মুক্তভাবে নিজেকে প্রকাশ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।