Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

বিনোদন

সফল দাম্পত্যের জন্য যে পরামর্শ ভিকি কৌশলের

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৬ এএম

সফল দাম্পত্যের জন্য যে পরামর্শ ভিকি কৌশলের

বিজ্ঞাপন

ভালোবাসার বিয়ে হোক কিংবা পরিবারের পছন্দে-দাম্পত্য জীবনের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে দু’জন মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মানসিক বন্ধনের ওপর। বিয়ের ধরন নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও অভিনেতা ভিকি কৌশলের মতে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একে অপরকে বোঝা, সম্মান করা এবং পাশে থাকা।

ক্যাটরিনা কাইফকে বিয়ের আগে এক সাক্ষাৎকারে ভিকি জানিয়েছিলেন, জীবনসঙ্গী হিসেবে তিনি এমন একজন মানুষকে চেয়েছিলেন, যার সঙ্গে থাকলে সবসময় নিজের বাড়িতে থাকার মতো অনুভূতি হবে। তার কাছে সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দু’জন মানুষ যেন একে অপরের ভালো-মন্দ দুটো দিকই গ্রহণ করতে পারেন। পাশাপাশি একে অপরকে আরও ভালো মানুষ হয়ে উঠতেও সাহায্য করতে পারেন।

ভিকির এই ‘বাড়ির মতো’ অনুভূতির ধারণার মধ্যে রয়েছে সম্পর্কের গভীর এক মানসিক দিক। একটি সুস্থ সম্পর্কে মানুষ শুধু ভালোবাসা পেতে চান না, নিরাপদও বোধ করতে চান। এমন একজন সঙ্গীকে পাশে পাওয়া, যার সামনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে বারবার ভাবতে হয় না, দাম্পত্যকে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক করে তোলে।

সঙ্গীর সামনে নিজেকে সবসময় নিখুঁত প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই-এটিও একটি সুস্থ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক। নিজের দুর্বলতা, ভয়, ভুল কিংবা খারাপ দিকগুলোও সঙ্গীর কাছে প্রকাশ করা যাবে এবং সেসব কারণে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না-এমন মানসিক নিরাপত্তাই দাম্পত্যকে শক্ত করে।

ভিকি ও ক্যাটরিনা কাইফের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তাদের বেড়ে ওঠা, পরিবার, জীবনযাপন ও কাজের জগতের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকলেও সম্পর্কের ক্ষেত্রে দু’জনেই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়াকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

ভিকি একাধিকবার বলেছেন, বিয়ে প্রেমের হোক কিংবা অ্যারেঞ্জড-সম্পর্কের সাফল্যের জন্য ভালোবাসা, বোঝাপড়া ও সহমর্মিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দু’জন মানুষ সব বিষয়ে একমত হবেন, এমনটা কখনোই জরুরি নয়। মতের অমিল থাকতেই পারে। তবে সেই অমিলকে সম্মান করে একে অপরের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করাই সম্পর্ককে সুন্দর করে।

এ কারণে প্রেমের বিয়ে ও অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের প্রচলিত বিভাজনও অনেকটা অর্থহীন হয়ে যায়। কারণ বিয়ে কীভাবে হলো, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিয়ের পর দু’জন মানুষ একে অপরকে কীভাবে গ্রহণ করছেন। প্রেমের সম্পর্কেও যদি বোঝাপড়া ও সম্মান না থাকে, সেই সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে। আবার পরিবারের পছন্দে বিয়ের পর দু’জন মানুষ যদি সময় নিয়ে একে অপরকে বোঝেন, ভালোবাসেন ও সম্মান করেন, সেই সম্পর্কও গভীর হতে পারে।

ভিকি-ক্যাটরিনার বিয়ের সিদ্ধান্তও হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। ভিকির বক্তব্য অনুযায়ী, সম্পর্কের শুরু থেকেই দু’জন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছিলেন। ভবিষ্যৎ নিয়েও তারা পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অর্থাৎ দাম্পত্যের ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক মতামত ও বোঝাপড়াকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

দাম্পত্য জীবনে ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন ভিকি। তার মতে, দু’জন মানুষ সব বিষয়ে সবসময় একমত হতে পারেন না। কখনো মতবিরোধ হবে, কখনো ভুল বোঝাবুঝিও তৈরি হতে পারে। তবে এসব পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সময় দেওয়া জরুরি। সময়ের সঙ্গে দু’জন মানুষ একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে শেখেন।

সব মিলিয়ে ভিকি কৌশলের পরামর্শের মূল কথা-দাম্পত্যের সাফল্য বিয়ের ধরন দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বরং ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা, মানসিক নিরাপত্তা, ধৈর্য এবং একে অপরকে গ্রহণ করার মানসিকতাই একটি সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করে। সঙ্গীর পাশে থেকে তাকে নিজের মতো করে বাঁচার সুযোগ দেওয়াই হয়তো সফল দাম্পত্যের অন্যতম বড় চাবিকাঠি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার