Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

বিনোদন

কুমার বিশ্বজিতের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন পিটিশন অনুমোদন

হিল্লোলের পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৭ এএম

কুমার বিশ্বজিতের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন পিটিশন অনুমোদন

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিতের যুক্তরাষ্ট্রের  ইবি-এ১ অভিবাসন পিটিশন অনুমোদনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অভিনেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আদনান ফারুক হিল্লোল তার ফেসবুক পোস্টে কুমার বিশ্বজিতকে অভিনন্দন জানিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেন। পোস্টের সঙ্গে থাকা একটি প্রচারপত্রে কুমার বিশ্বজিতের ছবি ব্যবহার করে ইবি-এ১ অনুমোদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে আরও দাবি করা হয়েছে, পিটিশনটি নয় দিনের মধ্যে অনুমোদিত হয়েছে।

কুমার বিশ্বজিৎ বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের অন্যতম পরিচিত কণ্ঠশিল্পী। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় গান এবং বিভিন্ন অর্জনের মাধ্যমে তিনি দেশের শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন। ফলে তার যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-এ১ পিটিশন অনুমোদনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি শুধু বিনোদন অঙ্গনেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি করেছে।

তবে এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এটিকে ‘ ইবি-এ১ ভিসা অ্যাপ্রুভড’ হিসেবে তুলে ধরা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায়  ইবি-এ১ মূলত একটি কর্মভিত্তিক অভিবাসী শ্রেণির পিটিশন। এর মাধ্যমে অসাধারণ সক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তিরা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। তাই  ইবি-এ১ পিটিশন অনুমোদনকে সরাসরি চূড়ান্ত অভিবাসী ভিসা বা গ্রিন কার্ড পাওয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ইবি-এ১ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মভিত্তিক প্রথম অগ্রাধিকার শ্রেণি ইবি-এ১ এর একটি উপশ্রেণি। বিজ্ঞান, শিল্পকলা, শিক্ষা, ব্যবসা কিংবা ক্রীড়াক্ষেত্রে অসাধারণ সক্ষমতা রয়েছে এবং নিজ ক্ষেত্রে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য এই শ্রেণি প্রযোজ্য। আবেদনকারীর যোগ্যতা প্রমাণের জন্য পুরস্কার, প্রকাশিত প্রতিবেদন, পেশাগত অবদান, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, স্বীকৃতি এবং নিজ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্জনের মতো বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ বিবেচনা করা হয়।

শিল্পী ও সংগীতশিল্পীদের ক্ষেত্রেও ইবি-এ১ প্রযোজ্য হতে পারে। তবে শুধু জনপ্রিয় বা পরিচিত ব্যক্তি হওয়াই এই শ্রেণির অনুমোদনের জন্য যথেষ্ট নয়। ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর জমা দেওয়া নথি ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে তিনি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অসাধারণ সক্ষমতার প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করেছেন কি না, তা নির্ধারণ করে।

হিল্লোলের প্রকাশিত পোস্টে কুমার বিশ্বজিতের পিটিশন অনুমোদনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। পোস্টে নয় দিনের মধ্যে অনুমোদনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

তবে নয় দিনের এই সময়সীমা সম্পর্কে আলাদা কোনো সরকারি কেস রেকর্ড বা ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত অনুমোদনপত্র প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এই সময়সীমার দাবিটি বর্তমানে হিল্লোলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দেওয়া তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ইবি-এ১ পিটিশনের ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম প্রসেসিংয়ের সুযোগ রয়েছে। এ সুবিধার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে যোগ্য পিটিশনের দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের অনুরোধ করা যায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট আবেদন কত দিনে অনুমোদিত হবে, তা মামলার ধরন, জমা দেওয়া প্রমাণ এবং ইউএসসিআইএসের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।

বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা যাচাই, ব্যাকগ্রাউন্ড স্ক্রিনিং এবং আবেদনকারীর তথ্য যাচাইয়ের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একজন বাংলাদেশি জনপ্রিয় শিল্পীর ইবি-এ১পিটিশন অনুমোদনের খবর প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতেও আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি প্রকাশের পর অনেকেই কুমার বিশ্বজিতকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। শিল্পী হিসেবে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনের এই খবরকে ঘিরে বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার