বিজ্ঞাপন
বার্লিনে হচ্ছে ‘গ্রীষ্ম উৎসব’, গাইবেন জলের গানের রাহুল আনন্দ
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
আগামী ১৬ আগস্ট জার্মানির রাজধানী বার্লিনে আয়োজন করা হচ্ছে ‘গ্রীষ্ম উৎসব ২০২৬’। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন ‘উদযাপন’-এর উদ্যোগে বার্লিনের ভাইনস্ট্রাসে এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে এ উৎসব। উৎসব প্রাঙ্গণে দেশীয় খাবার ও নানা পণ্যের স্টলের পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য থাকবে বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন। বার্লিনসহ আশপাশের শহরগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী পরিবার এতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এবারের উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন জনপ্রিয় লোকজ ফিউশন ব্যান্ড ‘জলের গান’-এর ভোকালিস্ট রাহুল আনন্দ। গ্রীষ্মের উজ্জ্বল দিনে জার্মানির আকাশে যখন রোদ ঝলমল করবে, তখন বাংলার নদী-নালা ও লোকজ সুরের আবহ নিয়ে বার্লিনের মঞ্চে হাজির হবেন তিনি। জলের গান ব্যান্ডের এই শিল্পীর পরিবেশনা ঘিরে ইতোমধ্যেই প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর বার্লিনে এমন বড় পরিসরের আয়োজনে রাহুল আনন্দের অংশগ্রহণ প্রবাসী বাঙালিদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলবে। তার পরিবেশনার পাশাপাশি বার্লিন ও কটবুস শহরের তিনটি স্থানীয় ব্যান্ডও মঞ্চে পারফর্ম করবে।
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে জলের গান ব্যান্ডটি লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও আধুনিক সুরের মিশেলে স্বতন্ত্র ধারার সংগীত তৈরি করে দেশ-বিদেশে পরিচিতি অর্জন করেছে। ব্যান্ডটির প্রধান রাহুল আনন্দ পরিত্যক্ত উপকরণ দিয়ে বাদ্যযন্ত্র তৈরি এবং লোকসংগীতের নতুন উপস্থাপনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ইউরোপে বসবাসরত বাঙালিদের কাছে তার গান দেশের মাটির সঙ্গে সংযোগ রক্ষার এক অনন্য মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, উৎসবের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে এবং তা তিনটি ধাপে পাওয়া যাবে। ২ আগস্ট পর্যন্ত ‘হলদে বউ’ ক্যাটাগরিতে টিকিটের মূল্য ১০ ইউরো, ৩ থেকে ৯ আগস্ট ‘নীলকণ্ঠ’ ক্যাটাগরিতে ১২ ইউরো এবং ১০ থেকে ১৬ আগস্ট ‘কোকিলা’ ক্যাটাগরিতে টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ ইউরো। অংশগ্রহণে আগ্রহীদের নির্দিষ্ট লিংকের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
সংগঠক ও জার্মান প্রবাসে ম্যাগাজিনের সম্পাদক জাহিদ কবির হিমন বলেন, প্রবাসে সংস্কৃতি কেবল নস্টালজিয়ার বিষয় নয়; এটি পরিচয়, ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে শিকড়ের সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তার মতে, রাহুল আনন্দ ও ‘জলের গান’-এর মতো শিল্পীদের বার্লিনে নিয়ে আসা শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; বরং এটি বাংলাদেশের সমকালীন সংগীত, লোকঐতিহ্য ও সৃজনশীলতাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার একটি কার্যকর উদ্যোগ। এমন আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের একত্রিত করে, নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করে এবং ইউরোপের বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে বাংলাদেশের ইতিবাচক ও প্রাণবন্ত পরিচিতি গড়ে তোলে।