বিজ্ঞাপন
লিসবনে জেমস-জায়েদের পরিবেশনায় মুখর হাজারও প্রবাসী বাংলাদেশি
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
বিজ্ঞাপন
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বাংলা গান, সংস্কৃতি ও প্রবাসীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় ‘লিসবন বাংলা লাইভ কনসার্ট’। ‘কাজা দো বাংলাদেশ’ ও ‘নোটিশিয়াস বাংলা’র উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন দুই হাজারেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি। প্রায় সাত ঘণ্টাব্যাপী এই আয়োজনে নগর বাউল জেমস তার জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। অন্যদিকে চিত্রনায়ক জায়েদ খান তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি, দর্শকদের সঙ্গে আন্তরিক যোগাযোগ এবং পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করেন।
গত ২৬ জুলাই স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত লিসবনের Lisboa ao Vivo (LAV-এ অনুষ্ঠিত এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পর্তুগালের বিভিন্ন শহর থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। উপচে পড়া ভিড় ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো ভেন্যু উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
মঞ্চে একের পর এক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন জেমস। তার গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান উপস্থিত দর্শকরা। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যান্ডের শিল্পীদের পরিবেশনা এবং তরঙ্গ নৃত্য একাডেমির নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। করতালি, উল্লাস ও সম্মিলিত কণ্ঠে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাসের মাটিতে যেন এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পর্তুগিজ নাগরিক রনি মোহাম্মদ বলেন, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা জায়েদ খানের একনিষ্ঠ ভক্ত। প্রিয় শিল্পীকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। মজার ছলে বলেন, সুযোগ পেলে জায়েদ খানের সঙ্গে তিনিও একটি ডিগবাজি দিতে চান।
পর্তুগালপ্রবাসী ফারুক সিকদার জানান, সেদিন তার দোকান খোলা রাখার কথা থাকলেও প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি বলেন, জেমস ও জায়েদ খানকে একই মঞ্চে দেখতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া প্রবাসীরা জানান, বিদেশের মাটিতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন তাদের দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শেকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে সহায়তা করে। ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
আয়োজকদের অন্যতম রনি হোসাইন, রাসেল আহমেদ, মোহাম্মদ মাসুম আহমেদ এবং ইকবাল হোসেন কাঞ্চন বলেন, পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে সংস্কৃতি, ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করতেই এ আয়োজন। দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের প্রবাসে এনে প্রবাসীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রবাসীদের বিপুল সাড়া তাদের ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে উৎসাহিত করবে বলেও জানান তারা।
অনুষ্ঠানটি আবারও প্রমাণ করেছে, ভৌগোলিক দূরত্ব যতই থাকুক না কেন, বাংলা গান, সংস্কৃতি এবং দেশের প্রতি ভালোবাসাই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের এক অদৃশ্য বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখে।