Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

বিনোদন

ওজন বাড়লো, ঝরে গেল চুল তবু হার মানেননি হেনা

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯ এএম

ওজন বাড়লো, ঝরে গেল চুল তবু হার মানেননি হেনা

বিজ্ঞাপন

ওজন বাড়লো, ঝরে গেল চুল-তবু হার মানেননি ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী হিনা খান। স্টেজ-৩ স্তন ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে কেমোথেরাপির কারণে বদলে গিয়েছিল তার শরীর, ঝরে পড়েছিল মাথার চুল থেকে চোখের পাপড়িও।

কঠিন এই সময়ে ভেঙে না পড়ে ইতিবাচক মানসিকতা, পরিবারের সমর্থন এবং আধ্যাত্মিক চর্চাকেই শক্তি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক পডকাস্টে ক্যানসার-যুদ্ধের সেই কঠিন দিনগুলোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও হাল না ছাড়ার মানসিকতাই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

হিনা খান বলেছেন, ক্যানসারের চিকিৎসার সময় শরীরের পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি এবং চুল হারানোর মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্যেও আধ্যাত্মিকতা (স্পিরিচুয়ালিটি) তাকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সাহায্য করেছে।

‘ইয়ে রিশতা ক্যা কেহলাতা হ্যায়’ খ্যাত এই অভিনেত্রী ২০২৪ সালের ২৮ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে জানান, তার স্টেজ-৩ স্তন ক্যানসার (ব্রেস্ট ক্যানসার) ধরা পড়েছে। সে সময় তিনি লিখেছিলেন, কঠিন এই রোগ নির্ণয়ের পরও তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় এবং চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অভিনেত্রী সোহা আলি খানের পডকাস্ট ‘অল এভাউট হার’-এ অংশ নিয়ে নিজের ক্যানসার, কেমোথেরাপি এবং মানসিক লড়াইয়ের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

‘আয়নায় নিজেকে দেখা ছিল সবচেয়ে কঠিন’
পডকাস্টে হিনা খান বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসার সময় তার শরীরে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। আগে তিনি সবসময়ই ছিপছিপে গড়নের ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসার সময় তার ওজন বেড়ে যায়, শরীরের গঠন বদলে যায় এবং মাথার চুলের পাশাপাশি চোখের পাপড়িও ঝরে পড়ে।

তার ভাষায়, প্রথমদিকে নিজেকে সাহসী রাখার চেষ্টা করলেও ধীরে ধীরে বাস্তবতা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে আয়নায় নিজের পরিবর্তিত চেহারা দেখা ছিল সবচেয়ে কষ্টের।

তবে তিনি নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দিতেন, এই পরিবর্তন স্থায়ী নয়। হিনা বলেন, জীবনে সবকিছুরই একটি সময় আছে। বাহ্যিক সৌন্দর্য বদলে যেতে পারে, কিন্তু মানসিক সুস্থতা ও স্থিরতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

‘ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে হবে’
হিনা খানের মতে, ক্যানসারের রোগীদের নিজেদের চারপাশে ইতিবাচক একটি পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। পরিবারের ভালোবাসা, বন্ধুদের সমর্থন, ধ্যান, বিশ্বাস কিংবা আধ্যাত্মিক চর্চা-সবই একজন রোগীকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সহায়তা করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে আধ্যাত্মিকতা আমাকে বদলে দিয়েছে।’ তার মতে, মানুষের হাতে কেবল নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করাটাই থাকে। এরপর কী হবে, তা সবসময় নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাই প্রতিটি পরিস্থিতিতে শতভাগ চেষ্টা করে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

‘কেমোথেরাপির প্রথম সপ্তাহ ছিল সবচেয়ে কঠিন’
কেমোথেরাপির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হিনা বলেন, কেমোথেরাপির সেশন তিন সপ্তাহ পরপর হতো। প্রতিটি সেশনের পর প্রথম সপ্তাহজুড়ে শরীরে তীব্র স্নায়বিক (নিউরোপ্যাথিক) ব্যথা হতো। বিশেষ করে চিকিৎসার প্রথম সপ্তাহ ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। শরীরের প্রায় সব স্নায়ুতে ব্যথা হতো। যন্ত্রণাটা অনেক সময় অসহনীয় ছিল।

ব্যথানাশক ওষুধ কিছুটা স্বস্তি দিলেও পুরোপুরি ব্যথা দূর হতো না। ধীরে ধীরে এক সপ্তাহ পর অবস্থার উন্নতি হতো এবং পরের দুই সপ্তাহ তুলনামূলক ভালো কাটত। ওই সময় তিনি ভ্রমণ করতেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করতেন।

‘ক্যানসার আমার জীবনের শেষ নয়’
হিনা খানের ভাষায়, অনেকের কাছে ক্যানসার জীবনের সমাপ্তি মনে হতে পারে। কিন্তু তিনি এটিকে জীবনের একটি কঠিন অধ্যায় বা ‘একটি পর্যায়’ হিসেবেই দেখেছেন। রোগ ধরা পড়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, কোনো অবস্থাতেই হাল ছাড়বেন না।

‘যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তাহলে আমি সেটাই করব। প্রতিটি দিন যতটা সম্ভব ভালোভাবে বাঁচার ইচ্ছাই আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে’- বলেন তিনি।

কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেমোথেরাপির ওষুধ দ্রুত বিভাজিত হওয়া ক্যানসার কোষ ধ্বংস করার পাশাপাশি শরীরের কিছু সুস্থ কোষেও প্রভাব ফেলে। এ কারণেই বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই ধরনের বা একই মাত্রার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে-

চুল, ভ্রু ও চোখের পাপড়ি ঝরে যাওয়া
অতিরিক্ত ক্লান্তি
বমি বমি ভাব ও বমি
মুখে ঘা বা স্বাদের পরিবর্তন
ক্ষুধার পরিবর্তন এবং ওজন কমে বা বেড়ে যাওয়া
হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, অবশভাব বা স্নায়বিক ব্যথা (পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি)
রক্তের শ্বেতকণিকা কমে গিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি
মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিতে সাময়িক প্রভাব, যাকে অনেক সময় ‘কেমো ব্রেন’ বলা হয়।

এক রক্ত পরীক্ষাতেই জানা যাবে শরীরে ক্যানসার আছে কি না
চিকিৎসকদের মতে, এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অনেকগুলোই চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে কমে যায় বা সেরে ওঠে। তবে কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে স্নায়ুর সমস্যা, দীর্ঘ সময় স্থায়ী হতে পারে। তাই চিকিৎসাকালীন যেকোনো নতুন উপসর্গ বা তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবশ্যই চিকিৎসককে জানানো উচিত।

তথ্যসূত্র: হেনা খানের ইনস্টাগ্রাম, এনডিটিভি, আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি, ক্যানসার কাউন্সিল

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার