বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যাও, সোনম কিছু খেয়ে নাও, পিছু হটলেন সালমান
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
বিজ্ঞাপন
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন নিয়ে একদিনের ব্যবধানে ভিন্ন মনোভাব প্রকাশ করেছেন বলিউডের অভিনেতা সালমান খান।
যে অভিনেতা এই আন্দোলন-প্রতিবাদকে ‘সঠিক পথ’ বলে মন্তব্য করে শিক্ষার্থীদের সমর্থন করেছিলেন, তিনিই আন্দোলকারীদের এখন বাড়ি ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলনকে যেন রাজনৈতিক রূপ না দেওয়া হয় সেই হুঁশিয়ার দিলেও, সালমান এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি আস্থা রাখতে অনুরোধ করছেন।
পাশাপাশি আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে আমরণ অনশনে বসা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অনশন ভেঙে খাওয়াদাওয়া করতেও পরামর্শ দিয়েছেন বলিউডের এই তারকা অভিনেতা।
সালমান এই বার্তা দিয়েছেন বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে।
পোস্টে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সালমান লিখেছেন, “তোমাদের (শিক্ষার্থীদের) লেখাপড়া ও নিরাপত্তাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই তাদের এত উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নাই, আর বাবা-মাকেও দুঃশ্চিন্তায় রাখার প্রয়োজন নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে টুইট করেছেন। আমার বিশ্বাস, প্রশ্নফাঁসের জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। তাই শিক্ষার্থীদের বলছি, দয়া করে তোমারা বাড়িতে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাও।”
এটুকু বলেই ক্ষান্ত হননি সালমান। সোনমকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়ে রসিকতাও করেছেন।
তিনি লিখেছেন, “সোনম, যা হওয়ার হয়ে গেছে ভাই। ব্যাপারটা আর টেনে নিও না। ভবিষ্যতে যদি আবার প্রয়োজন পড়ে, সেই লড়াইয়ের জন্য শক্তি সঞ্চয় করে রাখ। যদিও আমার মনে হয়, তার আর প্রয়োজন হবে না। কিছু খেয়ে নাও। তুমি চাইলে, বাড়ি থেকে তোমার জন্য খাবার পাঠিয়ে দেব।”
ভারতের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় (নিট) অনিয়মের অভিযোগ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।
আগের পোস্টে সালমান কি বলেছিলেন
এ প্রসঙ্গে বুধবার তিনি ইনস্ট্রগামে দেওয়া পোস্টে বলেছিলেন, সিজেপির ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে পুলিশি বাধা ও লাঠিচার্জে শিক্ষার্থীতের আহত হওয়া ঘটনা তার মনকে ব্যথিত করেছে।
তিনি লিখেছেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলকে সহিংস রূপ নিতে হল, যা মর্মান্তিক। যেসব শিক্ষার্থী ও তাদের স্বজনরা আহত হয়েছেন, তাদের জন্য সমবেদনা। তাদের জন্য মন থেকে কষ্ট হচ্ছে।
“প্রশ্নপত্র ফাঁস অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। আমি আনন্দিত যে শিক্ষার্থীরা একটি উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক হয়েছে এবং অভিভাবকরা তাদের সমর্থন করেছেন। যা দেখে ভালো লাগছে।”
তাদের ভূমিকার প্রশংসা করে সালমান লিখেছেন, “ছেলেমেয়েদের অবস্থানের প্রশংসা করি। পড়াশোনার প্রতি তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ইচ্ছা এবং শিক্ষিত ভারত গড়ার স্বপ্ন সত্যিই প্রশংসনীয়। এই আন্দোলন, এই প্রতিবাদই সঠিক পথ। আর ছাত্রছাত্রীরা শান্তিপূর্ণ ভাবেই সেই পথ বেছে নিয়েছেন। এই সাহস এবং দৃঢ়তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। শিক্ষার প্রতি এই প্রজন্মের আগ্রহ এবং লক্ষ্যই একদিন ভারতকে গর্বিত করবে।”
এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয় বলেও মনে করেন সালমান।
তার ভাষ্য, “শিক্ষার্থীদের জন্য আমার মন থেকে কষ্ট হচ্ছে। এই বিষয়টি ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। এটিকে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয়। এই আন্দোলনের কৃতিত্ব শুধু আমাদের দেশের ছাত্রছাত্রীদেরই প্রাপ্য।”
এই পরিস্থিতিতে সরকার সঠিক ভূমিকায় থাকবে বলে বিশ্বাস করছেন সালমান।
তিনি লিখেছে, “বিশ্বাস করি সরকারও তাদের পাশে দাঁড়াবে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। এতে সবাই লাভবান হবে। আমি আশা করছি, ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবার জন্য শুভকামনা। যারা পড়াশোনা করতে চায়, ঈশ্বর তাদের সহায় হন।”
ভারত বিশ্বের অন্যতম শিক্ষাকেন্দ্র হয়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সালমান। তিনি মনে করেন, তার দেশ শিক্ষা খাতে জনপ্রিয় হয়ে উঠুক।
‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে যা হল
সোমবার যুব সংগঠন সিজেপি ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি নিয়ে দিল্লিতে পথে নামে। সেদিন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা করে, কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে ও জলকামান ব্যবহার করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় রাজধানী দিল্লি। বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনা ঘটে মুম্বাইয়েও।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশের হামলায় বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এছাড়া সাধারণ পোশাকে থাকা কিছু মানুষও হাতে লাঠি নিয়ে তাদের উপরে চড়াও হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মাসের শুরুতে এই আন্দোলনে যোগ দেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক; দিল্লিল যন্তর মন্তরে তিনি অনশন শুরু করেন।
সিজেপির বিক্ষোভ ৩৪তম দিনে গড়ালেও সংগঠনটির সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আলোচনা স্থবির হয়ে রয়েছে। সরকারের দাবি, তারা চারবার সিজেপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পায়নি। আন্দোলন এখনো চলছে। দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে নতুন করে সহিংসতা হয়েছে।
বুধবার রাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। বৃহস্পতিবারও যন্তর মন্তরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থাকায় ওই এলাকার দেড় কিলোমিটারের ভেতরে মধ্যরাত পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
লাঠিচার্জের প্রতিবাদে একইদিনে বিক্ষোভে নামে কংগ্রসেও। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসা বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে টেনে হিঁচড়ে বাসে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। তবে তাদেরকে কয়েকঘন্টা আটকে রাখার পর রাত ৯ টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং শুক্রবার এ বিষয়ে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এদিন একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেয় দিল্লি হাই কোর্ট।
সিজেপি ও তাতে শামিল হওয়া আন্দোলনকারীদের সমর্থন করছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শবানা আযমি, তিনি রাজপথে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে তাদের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।
এ ঘটনায় নাসিরুদ্দিন শাহ রাষ্ট্র পরিচালনাকরীকে ‘অশিক্ষিত’ বর্ণনা করে তুলোধুনো করে ছেড়েছেন। সরকারের সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী নন্দিতা দাস, প্রীতি জিনতা, পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ, অনুপম খের, দক্ষিণের অভিনেতা কমল হাসান।
এছাড়া এ সময়ের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে সোনাক্ষী সিনহা, দিয়া মির্জা, স্বরা ভাস্কর, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, প্রীতি জিনতা, ভূমি পেডনেকার, হুমা কুরেশি, সোনু সুদ, বীর দাস, অদিতি রাও হায়দারি, সুতপা সরকার, রীতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজা এবং সংগীত শিল্পী অরিজিৎ সিং, সোনু নিগমও আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।