বিজ্ঞাপন
মডেল মেঘনাকে স্বামীর জীবন থেকে সরে যেতে নারীর মেসেজ!
জব্দ মোবাইলের ফরেনসিক পরীক্ষায় মিলেছে নানা তথ্য
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে নাম জড়ানোয় গত বছর আলোচনায় আসেন মডেল ও মিস আর্থ বাংলাদেশ বিজয়ী মেঘনা আলম। এরপর তার বিরুদ্ধে কূটনীতিকদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয় ধানমণ্ডি থানায়। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অধীনে তদন্তাধীন।
তদন্তের অংশ হিসেবে মেঘনা আলমের জব্দ করা ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে আদালতে। সেখানে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। মেঘনা আলমকে নিজের স্বামীর জীবন থেকে সরে যেতে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন এক নারী।
বিশেষ ক্ষমতা আইনে গত বছরের ১০ এপ্রিল ৩০ দিনের আটকাদেশ দিয়ে মডেল মেঘনাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এসময় তার কাছ থেকে জব্দ করা হয় ম্যাকবুক ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল ও পাসপোর্ট। পরে তার ৩০ দিনের আটকাদেশ বাতিল হয়।
একই বছরের ১৭ এপ্রিল ধানমন্ডি থানার মামলায় মেঘনাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ২৮ এপ্রিল আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরদিন ২৯ এপ্রিল তিনি কারামুক্ত হন।
মুক্তি পাওয়ার পর ২৯ জুলাই পাসপোর্ট, মোবাইল ও ল্যাপটপ ফেরত চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করেন এই মডেল। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন আদালত মেঘনার মোবাইল ও ল্যাপটপে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো উপাদান আছে কি-না, তা তদন্তের নির্দেশ দেন।
আদালতের আদেশে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের পুলিশ পরিদর্শক কে এম নাহিদ হাসান মেঘনার ম্যাকবুক ল্যাপটপ, আইফোন সিক্সটিন প্রো ও অপো মোবাইলের ফরেনসিক পরীক্ষা শুরু করেন৷ চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ওই প্রতিবেদন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে গত ১ মে এ সংক্রান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদন জুডিশিয়াল নথিতে সংযুক্ত চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
ফরেনসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাকবুক ল্যাপটপ, আইফোন সিক্সটিন প্রো ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। তবে টেকনিক্যাল ইরোর (কারিগরি ত্রুটি) থাকায় অপো মোবাইলটি পরীক্ষা করা যায়নি। পরীক্ষায় ম্যাকবুক ল্যাপটপে মামলা সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আইফোনে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া এই ফোনে থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের দুটি সিম ব্যবহার করার তথ্য মিলেছে।
মেঘনা আলমের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে দেওয়ান সামির, মাহবুব ও আসমার মেসেজ আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে৷ এছাড়া আলামতে ব্যবহৃত অ্যাপল আইডি থেকে ইসা মাই হাজবেন্ডে বিভিন্ন সময়ে মেসেজ প্রেরণ করার তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মেঘনা আলমের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে দেওয়ান সামির, মাহবুব ও আসমার মেসেজ আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে৷ এছাড়া আলামতে ব্যবহৃত অ্যাপল আইডি থেকে ইসা মাই হাজবেন্ড নামে সেভ করা নম্বরে বিভিন্ন সময়ে মেসেজ পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। আইফোনে একজন নারীর (সম্ভবত সৌদি রাষ্ট্রদূতের স্ত্রীর) ভয়েস পাওয়া গেছে। যেখানে তার স্বামীর জীবন থেকে মেঘনা আলমকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে নমুনা ভয়েস না পাওয়ায় ভয়েস ম্যাচিং পরীক্ষা করা যায়নি।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ আগামীর সময়কে বলেছেন, জব্দ ডিভাইসের ফরেনসিক রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছি। আরেকটি ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো হাতে পাইনি। ওইটা পেলেই আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেব।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মেঘনা আলম, সামিরসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বিভিন্ন সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন বিদেশী রাষ্ট্রের কূটনীতিক/প্রতিনিধি ও দেশীয় ধনী ব্যবসায়ীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করে আসছে। সামির কাওয়াই গ্রুপের নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সিইও এবং সানজানা ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি ম্যানপাওয়ার প্রতিষ্ঠানের ফার্মের মালিক মর্মে জানা যায়। এছাড়া ইতোপূর্বে তার মিরআই ইন্টারন্যাশনাল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল।