বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
‘কবীর সিং’ কিংবা ‘এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’র মতো ব্লকবাস্টার সিনেমার মাধ্যমে বর্তমানে বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীদের একজন কিয়ারা আদভানি। তবে আজকের এই সাফল্যমণ্ডিত অবস্থানে পৌঁছানোর পথটা তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সংগ্রাম, ব্যর্থতা এবং সেই কঠিন সময়গুলো কীভাবে তার জীবনকে বদলে দিয়েছে, তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
রাজ শমানির সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কিয়ারা জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের ব্যর্থতাগুলোই তাকে আজকের এই পরিণত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
অনেকেই মনে করেন ‘এম এস ধোনি’ বা ‘কবীর সিং’ কিয়ারা আদভানির প্রথম সিনেমা, তবে আসল সত্যটি ভিন্ন। কিয়ারা বলেন, ‘আজও মানুষ মনে করে ‘এম এস ধোনি’ বা ‘কবীর সিং’ আমার প্রথম সিনেমা, কারণ এগুলোই ছিল আমার প্রথম বাণিজ্যিক সফল ছবি। কিন্তু বাস্তবে ‘ফাগলি’ ছিল আমার প্রথম সিনেমা। খুব বেশি মানুষ ছবিটি দেখেনি, হয়তো অনেকেই এখন এটি গুগলে সার্চ করে দেখবেন।’
২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফাগলি’ বক্স অফিসে একদমই সাড়া জাগাতে পারেনি। আর প্রথম ছবির এই বাণিজ্যিক ব্যর্থতাই কিয়ারাকে এক দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল।
পাশাপাশি বাণিজ্যিক সাফল্য না থাকায় বড় কোনো প্রযোজক বা পরিচালক তার সঙ্গে তখন কাজ করতেও আগ্রহী ছিলেন না। ফলে তার সামনে পছন্দের সুযোগগুলো একেবারেই সীমিত হয়ে আসে।
এমতাবস্থায় আর দশটা সাধারণ নবাগত অভিনেতার মতোই তাকে আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছিল। দিনের পর দিন অডিশন দেওয়া, কখনো সুযোগ পাওয়া, আবার কখনো প্রত্যাখ্যাত হওয়ার এক দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।
এত ওঠানামার পরও কিয়ারা কখনো ভেঙে পড়েননি। বরং সেই খারাপ সময়গুলোকে নিজের শক্তি বানিয়েছেন তিনি। কিয়ারার ভাষায়, ‘আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকেই আমি কিছু না কিছু শিখেছি, যা আজ আমাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। জীবনের এই চরম ভালো-মন্দ সময়গুলোই ছিল আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষক।’
ব্যর্থতার সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে আজ কিয়ারা আদভানি বলিউডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও সফল তারকা। ‘গিল্টি’ খ্যাত এই অভিনেত্রী প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, প্রথম ধাক্কাতেই থমকে না গিয়ে ধৈর্য ধরে লড়াই চালিয়ে গেলে সাফল্য ধরা দেবেই।
সূত্র: হাঙ্গামা এক্সপ্রেস