Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

বিনোদন

ঢাকাই সিনেমার নায়িকাদের কার বয়স কত?

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

ঢাকাই সিনেমার নায়িকাদের কার বয়স কত?

বিজ্ঞাপন

বয়স আড়াল করতে ভালোবাসেন নায়িকারা। অনেক গোপন কথা প্রকাশ করলেও বয়স প্রকাশ করতে নারাজ তারা। জানতে জোরজবরদস্তি করলে তো অনেকে তেড়েও আসেন। তবে প্রশ্ন হলো, কত বছর বয়স পর্যন্ত নায়িকা হিসেবে কাজ করা যায়।

খোদ চলচ্চিত্র নির্মাতারাই বলেন, নায়িকা হিসেবে ৩৫ বছরের বেশি হলে আজকাল দর্শক তা গ্রহণ করতে নারাজ।

এই সময়ে উইকিপিডিয়ায় সার্চ দিলে অনেক নায়িকারই বয়স সম্পর্কে জানা যায়। তবে সেটি যে প্রকৃত বয়স তা বিশ্বাস করে না সাধারণ মানুষ ও চলচ্চিত্রকাররা। কারণ পুরোনো প্রবাদ আছে- ‘মেয়েরা কখনো তাদের আসল বয়স বলে না, তারা বয়স লুকায়। ’ আরো একটি প্রবাদ আছে- মেয়েদের কাছে বয়স জানতে চাওয়া নাকি অভদ্রতা। আর এ প্রবাদের সুযোগটিই নেয় মেয়েরা।

ঢাকার নায়িকাদের মধ্যে বয়স নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়েছে বর্তমান সময়ে ব্যস্ত নায়িকা জয়া আহসানের। এ নিয়ে গণমাধ্যম যথেষ্ট অনুসন্ধান করেছে।

তারপরও তার প্রকৃত বয়স বের করতে এখনো কেউ সমর্থ হয়নি। জয়ার কাছে সাংবাদিকরা যখনই এ ব্যাপারে জানতে চান তখনই তিনি টেকনিক্যালি বলেন, ‘আরে ভাই, বয়স হলো একটি সংখ্যা মাত্র’। 

একটা সময় উইকিপিডিয়ায় উল্লেখ ছিল জয়ার জন্ম ১৯৭২ সালের ১ জুলাই। জয়া জানিয়েছিলেন সেই তথ্য ভুল। নায়িকার হিসাবে তার জন্ম ১৯৮৩ সালের ১ জুলাই।

 ২০১৯ সালের এক সাক্ষাৎকারে জয়া আহসান জানিয়েছিলেন তার বয়স ‘৩৭ বছরের একদিনও বেশি নয়’। সেই হিসাবে অভিনেত্রীর বর্তমান বয়স ৪৬ কিংবা ৪৭। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে জয়ার বিবাহ পূর্ববর্তী একটি ছবি। যখন জয়া আহসান নন, ছিলেন জয়া মাসউদ। 

হ্যাঁ, জয়ার প্রাক্তন স্বামীর পদবি আহসান। ডিভোর্স হলেও প্রাক্তনের পদবি নামের পাশ থেকে সরাননি অভিনেত্রী। সেই সাদা কালো ছবিতে বাঙালি সাজে দেখা মিলল জয়ার। পরনে শাড়ি, ছিমছাম গয়না। চুলে খোঁপা। সেই ছবিটির সাল স্পষ্ট নয়, তবে তা ১৯৯৮ সালের আগের সময়কার তা নিশ্চিত জয়ার নামের পাশে মাসউদ দেখা যাওয়ায়। জয়া সেই সময় জানিয়েছিলেন তার বয়স ২০ বছর। এক নেটিজেন লেখেন, ‘এইখানেও বয়স কমাইছিল। তখন কমপক্ষে ২৭-২৮ ছিল। সাজ্জাদ শরিফের ওয়াইফ শাওন আপার ক্লাসমেট তিনি। সে হিসাবে ৫৩’। আরেকজন লেখেন, ‘৮৩ তে জন্ম আর ৯৮ তে বিয়ে? চাইল্ড ম্যারেজ?’ হ্যাঁ, জয়ার হিসাব মতো চললে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বিয়ে সেরেছিলেন তিনি। ছবিটি ১৫ বছরের জয়া মাসউদের, এমনটা বিশ্বাস করতে নারাজ নেটিজেনরা। তবে অনেকেই জয়ার পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘আপনারা একজন গুণী শিল্পী হিসেবে তার কাজ দেখতে পারেন বয়স না’।

বয়স বিতর্কে জয়াও অতীতে জানিয়েছেন, ‘আমি প্রথম ও শেষবারের মতো সবার উদ্দেশে বলতে চাই : বয়স নয়, একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় হওয়া উচিত তার কাজে।’ জয়া বারবার প্রমাণ করে দিয়েছেন, বয়স তার কাছে শুধুই একটা সংখ্যা। নিজের অভিনয় গুণ আর পরিশ্রমের জেরে তিনি দুই বাংলার ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জয়ার এই পুরোনো সাক্ষাৎকারের আরও একটি জিনিস দেখে অবাক সবাই। সেখানে জয়া পাঁচ বছরে ডিপ্লোমা করেছেন সংগীতে। গায়িকা হিসেবেও যে দক্ষ জয়া, তা জানতেন না অনেকেই।’

ব্যতিক্রম ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী। যদিও তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকে দূরে তারপরও বয়স কত হলো- বলতে দ্বিধা নেই তার। দেশের একমাত্র নায়িকা তিনি যার বয়স সবার জানা। মৌসুমী এর আগে বয়স নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘দেশের একমাত্র নায়িকা যার বয়স সবাই জানে, সেটা হলো মৌসুমী। শুনি যে বাকি নায়িকাদের বয়স জানতে অনেকের ঘাম ছুটে যায়। বিষয়টি এমন, সবাই যেন কিশোরী। বয়স আমি গণনার মধ্যে রাখি না। তাহলে মনে হবে, আমার আর প্রয়োজন নেই, মারা যাব। আমার কাছে বয়স শুধুই একটা সংখ্যা। যতক্ষণ দায়িত্বজ্ঞান আছে, কাজ করে যাব। ভিতরকার চঞ্চলতা একই রকম থাকবে। মনের বয়স বাড়তে না দিলেই হয়।’ এবার জানা যাক, এ অভিনেত্রীর বয়স। ১৯৭৩ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মৌসুমী। গণনা করলে সহজেই বেরিয়ে আসবে তার বর্তমান বয়স। মানে ৫২ বছর ২ মাসের মতো। মাত্র ২০ বছর বয়সে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে নাম লেখান মৌসুমী।

এই তো গেল শীর্ষ দুই নায়িকা জয়া ও মৌসুমীর কথা। এবার দেখা যাক অন্য নায়িকা যারা এখন অভিনয়ে ব্যস্ত কিংবা অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন তাদের বয়স কত। সংশ্লিষ্টদের উইকিপিডিয়া ঘেঁটে যতদূর তথ্য পাওয়া গেছে তা মানতে নারাজ সাধারণ মানুষ, তাদের কথায় এখানে বয়স যথেষ্ট কমিয়ে লেখা হয়েছে।

এখানে বর্তমানে ব্যস্ত এবং অভিনয় থেকে দূরে এমন বেশ কয়েকজন নায়িকার উইকিপিডিয়া সূত্রে পাওয়া বয়স তুলে ধরা হলো- বিদ্যা সিনহা মিমের জন্ম ১৯৯২ সালের ১০ নভেম্বর। মানে তার বয়স এখন মাত্র ৩৪। আজমেরী হক বাঁধনের জন্ম ১৯৮৩ সালের ২৮ অক্টোবর অর্থাৎ তার বয়স এখন ৪৩। অপু বিশ্বাসের জন্ম ১৯৮৯ সালের ১১ অক্টোবর, মানে তার বয়স এখন মাত্র ৩৭ বছর।

মিথিলার জন্ম ১৯৮০ সালের ২৫ মে। মানে তার বয়স এখন ৪৬ বছর। তমা মির্জার জন্ম ১৯৮৫ সালের ১ জুন, মানে তার বয়স এখন ৪১ বছর। তাসনিয়া ফারিনের জন্ম ১৯৯৪ সালের ৩০ জানুয়ারি। মানে তার বয়স এখন ৩২ বছর। মেহজাবীনের জন্ম ১৯৯১ সালের ১৯ এপ্রিল। মানে তার বয়স এখন ৩৫ বছর। তানজিন তিশার জন্ম ১৯৯৩ সালের ২৩ মে। মানে তার বয়স এখন ৩৩ বছর। 

পূজা চেরীর জন্ম ২০০০ সালের ২০ আগস্ট। মানে তার বয়স এখন ২৬ বছর। শবনম বুবলীর জন্ম ১৯৮৮ সালের ২০ আগস্ট। মানে তার বয়স এখন ৩৮ বছর। নুসরাত ফারিয়ার জন্ম ১৯৯৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। মানে তার বয়স এখন ৩৩ বছর। নুসরাত ইমরোজ তিশার জন্ম ১৯৮৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। মানে তার বয়স এখন ৪৩ বছর। পরীমণির জন্ম ১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর। মানে তার বয়স এখন ৩৪ বছর। 

রুনা খানের জন্ম ১৯৮৩ সালের ১১ জানুয়ারি। মানে তার বয়স এখন ৪৩ বছর। প্রভার জন্ম ১৯৮৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। মানে তার বয়স এখন ৩৮ বছর। ববির জন্ম ১৯৮৭ সালের ১৮ আগস্ট। মানে তার বয়স এখন ৩৯ বছর। তাহলে এখানে দেখা যাচ্ছে চলচ্চিত্রকারদের দাবি, একজন নায়িকার সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ হতে হবে তা অনেকের পেরিয়ে গেলেও তারা দিব্যি জনপ্রিয়তা নিয়ে অভিনয় করে যাচ্ছেন। তবে, নায়িকাদের বয়সের এই তালিকা যেমন অনেক দীর্ঘ তেমনি তাদের আসল বয়সও ঢের বেশি। কিন্তু লুকোচুরির কারণে প্রত্যেকের প্রকৃত বয়স আড়ালেই থেকে যায়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার