বিজ্ঞাপন
সোনার দাম বাড়বে না কমবে? অর্থনীতিবিদদের বড় ভবিষ্যদ্বাণী ফাঁস!
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১২:২৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সোনার বাজারে (Gold Price) দেখা যাচ্ছে অস্বাভাবিক ওঠানামা। একদিকে বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দাম দ্রুত বেড়ে চলেছে, অন্যদিকে হঠাৎ করেই সেই ঊর্ধ্বগতি থেমে গিয়ে দাম নামতে শুরু করেছে। কলকাতার বাজারও তার ব্যতিক্রম নয়। কয়েকদিন আগেও ২৪ ক্যারেট সোনার ১ গ্রামের দাম ছিল প্রায় ১৩,৬২৫ টাকা, আর আজ তা নেমে এসেছে ১৩,১৭৩ টাকায়। মাত্র একদিনেই প্রায় ৪৫০ টাকার পতন বিনিয়োগকারীদের চিন্তায় ফেলে।
কলকাতায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম আজ ১২,০৭৫ টাকা প্রতি গ্রাম এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ৯,৭৯৩ টাকা। এই দামগুলো দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার যে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি গত কয়েক মাস ধরে চলছিল, তা আপাতত থামার পথে। এখন থেকে কয়েক সপ্তাহ সোনার দাম আরও কিছুটা নামতে পারে বলে তাদের অনুমান।
বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দামের এই পতনের পেছনে রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ। প্রথমত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ডলারের মানও শক্তিশালী হচ্ছে। ডলারের দাম বাড়লে সাধারণত সোনার দাম কিছুটা কমে, কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনা কেনার বদলে ডলারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।
দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কিছুটা কমেছে, ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনার পরিবর্তে অন্যান্য পণ্যে অর্থ ঢালছেন। উপরন্তু, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ আগামী মাসগুলোতে সুদের হার স্থিতিশীল রাখবে এমন ইঙ্গিত দিয়েছে। উচ্চ সুদের হারে বিনিয়োগকারীরা বন্ড বা অন্যান্য আর্থিক উপকরণের দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে সোনার চাহিদা কমছে।
ভারতে, বিশেষ করে কলকাতায়, সোনার বাজার সবসময়ই সংবেদনশীল। উৎসবের মরসুমে — যেমন দুর্গাপুজো, দীপাবলি বা বিবাহের সময় — সোনার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। পুজোর আগেই দাম বেশ বেড়েছিল, ফলে অনেকে কিনতে পিছিয়ে গিয়েছিলেন। এখন যখন দাম কিছুটা কমেছে, তখন অনেকেই ভাবছেন, এটাই কি সোনা কেনার সঠিক সময়?
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এখনই হঠাৎ বিনিয়োগ করা ঠিক হবে না। বাজারে এখনও অস্থিরতা রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে যদি আন্তর্জাতিক বাজারে আরও পরিবর্তন আসে, তাহলে দাম আরও নামতে পারে। তাই যারা বিনিয়োগ করতে চান, তাদের কিছুটা অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বিশ্ব বাজারে দাম কমার পর দেশের বাজারেও কমেছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ৮ হাজার ৩৮৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৮ হাজার ৯৯৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। বুধবার (২২ অক্টোবর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস।
এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৮ হাজার ৯৯৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪২ হাজার ২১৯ টাকা।
সবশেষ গত ১৯ অক্টোবর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা এতদিন ছিল দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর সর্বোচ্চ দাম।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৭ হাজার ৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৫৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
জুয়েলার্স সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ২০৫ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৯১৪ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৭৪ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৮০২ টাকায়।