Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতি

ডলারের দরপতন, চাঙা ইয়েন-পাউন্ড-কানাডীয় ডলার

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

ডলারের দরপতন, চাঙা ইয়েন-পাউন্ড-কানাডীয় ডলার

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভসহ বিশ্বের কয়েকটি প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আসন্ন বৈঠককে ঘিরে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

ডলারের দরপতনের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে জাপানের মুদ্রা ইয়েন। একই সঙ্গে কানাডীয় ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রার দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

অন্যদিকে, এক মাস ধরে দুর্বল থাকা ইউরোর দরপতন আপাতত থেমেছে।

আগামী সপ্তাহে বিশ্বের কয়েকটি প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা থাকলেও ভবিষ্যতে তা বাড়ানোর ইঙ্গিত আসতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের দ্রুত প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে শক্তিশালী রাখবে- এমন প্রত্যাশায় সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছিল।

তাদের ধারণা ছিল, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় তুলনামূলক বেশি থাকবে। তবে এআই খাতের ঋণ এবং শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ডলারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে ডলারের দরেও দুর্বলতা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এশিয়ার বাজারে প্রতি ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার বেড়ে ১৫৭ দশমিক ৩ ইয়েনে দাঁড়ায়।

অক্টোবরজুড়ে সীমিত পরিসরে ওঠানামার পর ইয়েনের দাম ৫০ দিনের গড় বিনিময় হারের সীমা অতিক্রম করে। এর আগে ব্রিটিশ পাউন্ড, কানাডীয় ডলার, অস্ট্রেলীয় ডলার ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রার দামও বেড়েছিল।

সিডনিভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এটিএফএক্স গ্লোবালের প্রধান বাজার কৌশলবিদ নিক টুইডেল বলেন, ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দাম আর বাড়ছে না- এমন পরিস্থিতিতে কিছু বিনিয়োগকারী ডলারে তাদের বিনিয়োগ কমিয়ে আনছেন।

কানাডীয় ডলার ও কিউইয়ের দর বৃদ্ধি

কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী সপ্তাহে সুদের হার বাড়াতে পারে- এমন প্রত্যাশা কানাডীয় ডলারের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

বৃহস্পতিবার প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে কানাডীয় ডলারের বিনিময় হার দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪০৩১, যা এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্রিটেনে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির তথ্যও পাউন্ডের দরকে সমর্থন জুগিয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৩৪০৯ ডলারে পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম ছিল ১ দশমিক ৩৪০৩ ডলার।

এদিকে নিউজিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী সপ্তাহে সুদের হার বাড়াতে পারে- এমন প্রত্যাশায় দেশটির মুদ্রা কিউইয়ের দাম এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৭ দশমিক ০৯ মার্কিন সেন্টে উঠেছিল। পরে অবশ্য তা কমে ৫৬ দশমিক ৯৮ সেন্টে নেমে আসে।

স্থিতিশীল ইউরো, ফ্রান্সের বাজেট নিয়ে উদ্বেগ

এক মাস ধরে ডলারের বিপরীতে দর হারানো ইউরো আপাতত স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। ফ্রান্সের বাজেট নিয়ে উদ্বেগ এবং ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা ইউরোর ওপর চাপ তৈরি করেছিল।

এসব কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইউরোর বিপরীতে অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

বুধবার ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সরকারি পরিষেবায় ব্যয় কমানোর পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতা বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও স্পষ্ট করেছে।

তবে এশিয়ার বাজারে সোমবার সাময়িক দরপতন ছাড়া ইউরোর দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। প্রতি ইউরোর বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার ১ দশমিক ১২ ডলারের ওপরে অবস্থান করে।

স্পেকট্রা মার্কেটসের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ট ডনেলি বলেন, ইউরোর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে না, আবার বাড়ছেও না। তার মতে, নেতিবাচক খবরের চাপ এবং বাজারে বিনিয়োগকারীদের অবস্থানের প্রভাব প্রায় সমান হওয়ায় ইউরোর বাজারে একধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

সুদের হার নিয়ে কী ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো

আগামী সপ্তাহে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) সুদের মূল হার ২ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার বাড়ানো হতে পারে- এমন প্রত্যাশা ইতিমধ্যে বাজারে তৈরি হয়েছে।

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও আগামী সপ্তাহে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে আগামী বছরের শুরুতে সুদের হার বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশে নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, অক্টোবরের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে প্রত্যাশা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এসব সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে তাদের অবস্থানও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আগামী সপ্তাহের বৈঠকগুলোর দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার