বিজ্ঞাপন
দুই মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে ৫৭ শতাংশ
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
বিজ্ঞাপন
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৪৬৩ কোটি ১২ লাখ টাকার।
আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল এক হাজার ৫৭২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দুই মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে সঞ্চয়পত্র বিক্রির পাশাপাশি আগস্টেও বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৪০৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার।
২০২৫ সালের একই মাসে বিক্রি হয়েছিল ২৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আগস্টে বিক্রি বেড়েছে ১২৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বা প্রায় ৪৫ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংকের আমানতের তুলনায় তুলনামূলক ভালো রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ থাকায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগের জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বিক্রি বাড়লেও সরকারের জন্য সঞ্চয়পত্র এখনো বড় ঋণের উৎস হয়ে উঠতে পারেনি। কারণ নতুন বিক্রির বড় অংশ পুরনো বিনিয়োগকারীদের মূল টাকা ফেরত দিতে ব্যয় হচ্ছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৯২ হাজার ৫১৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। একই সময়ে পুরনো সঞ্চয়পত্রের মূল টাকা ফেরত দিতে হয়েছে ৯২ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। ফলে ওই অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়ায় মাত্র ৪৩৬ কোটি ছয় লাখ টাকা।
অথচ বাজেটে এ খাত থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল, সংশোধিত বাজেটে যা কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়।
কয়েক বছর আগেও সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল সঞ্চয়পত্র। ২০২০-২১ অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। এখন নতুন বিনিয়োগের অর্থের বড় অংশ পুরনো বিনিয়োগকারীদের মূল ও মুনাফা পরিশোধে চলে যাওয়ায় সরকারের হাতে থাকছে তুলনামূলক কম অর্থ।
২০২৬ সালের আগস্ট শেষে সঞ্চয়পত্রে গ্রাহকদের মোট বিনিয়োগ বা সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৩৬ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। আগের বছরের আগস্টে এ স্থিতি ছিল তিন লাখ ৩৩ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা।