বিজ্ঞাপন
সোনার দামে পতনের শুরু? বিশ্ববাজারে কীসের ইঙ্গিত
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
বিশ্ববাজারে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই কমেছে সোনার দাম। সোমবার (৩১ আগস্ট) লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমেছিল দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
এদিন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম সামান্য কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৫৫ দশমিক ১৯ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছিল। তবে দিনের শুরুর দিকে মূল্যবান এই ধাতুর দাম নেমেছিল ১৯ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
একইদিন ডিসেম্বর সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম কমেছে ০ দশমিক ৫ শতাংশ। এর ফলে প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫০৬ দশমিক ৬০ ডলার।
কেন কমছে সোনার দাম
সোনার দাম কমার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে নতুন প্রত্যাশা।
ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ সম্প্রতি জ্যাকসন হোল সিম্পোজিয়ামে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ফেডের দুই শতাংশ লক্ষ্যে ফিরে আসছে—এ বিষয়ে নীতিনির্ধারকেরা নিশ্চিত না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে আরও কাজ রয়েছে।
তার এই বক্তব্যকে বাজার বিশ্লেষকেরা তুলনামূলক কঠোর অবস্থান হিসেবে দেখছেন। এর প্রভাব পড়ে সোনার বাজারেও।
গত শুক্রবার সোনার দাম তিন শতাংশের বেশি কমে যায়। একদিনে এত বড় পতন গত ১০ জুনের পর আর দেখা যায়নি।
আরও কমবে সোনার দাম?
ফেডের সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে বাজারে প্রত্যাশাও বেড়েছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এখন ৬২ শতাংশ। ওয়ার্শের মন্তব্যের আগে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৩৬ শতাংশ।
সাধারণত সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বাড়লে সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়। কারণ, সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে সোনার তুলনায় সুদযুক্ত সম্পদগুলো তখন বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাও প্রভাব ফেলছে
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায়ও সোনার বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়।
এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম তিন শতাংশের বেশি বেড়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সাধারণত সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আকর্ষণীয় করে তুললেও এবার এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং ফেডের কঠোর নীতির প্রত্যাশাও কাজ করছে।
অ্যাকটিভট্রেডসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তার মতে, কেভিন ওয়ার্শের কঠোর অবস্থানের পর সোনার ওপর চাপ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও বেড়েছে।
এক মাসে দাম বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি
সাম্প্রতিক পতন সত্ত্বেও আগস্ট মাসে সোনার দাম এখনো ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এটি জানুয়ারি মাসের পর সোনার সবচেয়ে বড় মাসিক মূল্যবৃদ্ধি হতে যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে সোনার দাম উঠেছিল ৪ হাজার ৬৯৬ দশমিক ১৮ ডলারে। এটি ছিল তিন মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম।
রুপা ও প্লাটিনামের বাজারেও ওঠানামা
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পরিবর্তন দেখা গেছে।
সোমবার স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৭ দশমিক ২৮ ডলারে উঠেছে। আগস্ট মাসে রুপার দাম বেড়েছে ১৯ শতাংশের বেশি। গত শুক্রবার রুপার দাম জুনের মাঝামাঝির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।
অন্যদিকে প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৮০৭ দশমিক ৫০ ডলারে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০২ ডলার।
তবে সোনা, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম—সবগুলো ধাতুই মাসিক হিসাবে উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধির পথে রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স