বিজ্ঞাপন
ব্যবসা সহজ করতে ২২ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
বিজ্ঞাপন
ব্যবসা-বিনিয়োগ সহজ করতে জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে ২২ সদস্যের এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
এ টাস্কফোর্স ব্যবসা সহজীকরণের সংস্কার রোডম্যাপ বাস্তবায়ন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার দীর্ঘসূত্রতা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইন-বিধি-নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ তদারকি করবে।
রবিবার (৯ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহজীকরণ বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী টাস্কফোর্সের সভাপতি। এছাড়াও পরিবেশমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা টাস্কফোর্সের সদস্য।
সদস্য হিসেবে আরও রয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, নৌপরিবহন সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান এবং যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরের রেজিস্ট্রার। ব্যবসায়ী ও শিল্প খাত থেকে এফবিসিসিআই, এফআইসিসিআই, ডিসিসিআই, এমসিসিআই, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সভাপতিদের রাখা হয়েছে।
টাস্কফোর্সের অন্যতম প্রধান কাজ হবে বিনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহজীকরণ-সংক্রান্ত খাতভিত্তিক সংস্কার রোডম্যাপ অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা। একইসঙ্গে লাইসেন্স অনুমোদন, ছাড়পত্র, কর, শুল্ক, ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার, নির্মাণ, পরিবেশ ও স্থানীয় সেবায় প্রয়োজনীয় ধাপ চিহ্নিত করে তা সহজ করার নির্দেশনা দেবে।
সেই সঙ্গে সরকারি সেবায় সিঙ্গেল উইন্ডো, সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ), স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন ও অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বাস্তবায়নের নীতিগত দিকনির্দেশনাও দেবে কমিটি।
এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে থাকা জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি, আইন, বিধি, নীতিমালা, প্রজ্ঞাপন ও প্রশাসনিক আদেশ সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা; ব্যবসায়ী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, অনিয়ম ও বিলম্বের বিষয়গুলো তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে টাস্কফোর্সকে।
এই কার্যক্রমের অগ্রগতি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে। টাস্কফোর্স প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
একই দিনে ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠন করেছে সরকার।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত ২৭ সদস্যের এই কমিটিতে সংস্কৃতি, শিল্প, বাণিজ্য, গৃহায়ণ, পরিকল্পনা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, পর্যটন, নারী ও শিশু, যুব ও ক্রীড়া এবং তথ্য ও সম্প্রচারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে।
কমিটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও সৃজনশীল শিল্পের প্রতিনিধিও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), ব্র্যাক, এইচএসবিসি বাংলাদেশ, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল সেক্টরের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য খাতবিশেষজ্ঞ। অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সামষ্টিক ও ভিটিডিয়াম) কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
স্টিয়ারিং কমিটি ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির খাতভিত্তিক রোডম্যাপ অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় ও দিকনির্দেশনা এবং বিভিন্ন খাতভিত্তিক কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।