Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতি

বিদেশে পড়াশোনার খরচে নতুন সুবিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

বিদেশে পড়াশোনার খরচে নতুন সুবিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিজ্ঞাপন

বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-সংক্রান্ত অর্থ পরিশোধ আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার অর্থ ডেবিট, প্রিপেইড অথবা ক্রেডিট কার্ডে লোড করে বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারীদের পেমেন্টের সুযোগ দিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ এর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ কিংবা অন্যান্য স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে বা আন্তর্জাতিক কার্ড গ্রহণকারী প্ল্যাটফর্মে টিউশন ফি, ভর্তি ও এনরোলমেন্টসহ শিক্ষা-সংক্রান্ত বৈধ ব্যয় পরিশোধ করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো বিদেশে নিয়মিত কোর্সে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অনুকূলে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করতে পারে। এর আওতায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ভাষা শিক্ষা কোর্স এবং স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের পেশাগত ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্সও রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্য বলছে, অনেক বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তাদের সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী নির্ধারিত পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে টিউশন ফি ও অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত অর্থ গ্রহণ করে। বিশেষ করে অনেক প্রতিষ্ঠানের ভর্তি বা এনরোলমেন্ট প্ল্যাটফর্মে সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ধরনের বৈধ লেনদেন সহজ করার জন্যই এডিরা ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু এবং ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

অর্থাৎ, আগে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করার পর অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে যেসব প্রক্রিয়াগত জটিলতা তৈরি হতো, নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সেই পেমেন্ট প্রক্রিয়া সহজ হবে।

নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই কার্ডে শিক্ষা-সংক্রান্ত লেনদেনকে ভ্রমণ কোটার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এ সুবিধার আওতায় সম্পন্ন লেনদেন পৃথকভাবে বিবেচনা করতে হবে এবং বিদ্যমান নিয়মের অধীনে কোনো ভ্রমণ কোটা বা অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়ার কোটার (foreign exchange entitlement) অংশ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

ফলে বিদেশে পড়াশোনার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভ্রমণের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের হিসাব এক করে দেখার সুযোগ থাকবে না।

তিন ধরনের কার্ডে দেওয়া যাবে সুবিধা

শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুবিধা তিন ধরনের আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া যাবে সেগুলো হলো ডেবিট কার্ড, প্রিপেইড কার্ড, ক্রেডিট কার্ড।

তবে ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে কত টাকা বা বৈদেশিক মুদ্রার সীমা থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ক্রেডিট নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে সেই সীমা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত প্রুডেনশিয়াল সীমার মধ্যেই থাকতে হবে।

কার্ডটি শুধু শিক্ষার্থীর নামেই হতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, কার্ড শিক্ষার্থীর নামে অথবা শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যয়ের দায়িত্ব বহনকারী ব্যক্তির নামে ইস্যু করা যেতে পারে।

এর ফলে বাবা-মা বা অন্য কোনো ব্যক্তি যদি শিক্ষার্থীর বিদেশে পড়াশোনার খরচ বহন করেন, তাহলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে তাদের নামেও কার্ড ইস্যু করা সম্ভব হবে।

কার্ডে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই বৈদেশিক মুদ্রা

ব্যাংকগুলোকে এ ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এডি ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে কার্ডে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা লোড করা হয়েছে, লেনদেন যেন তার প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যেই থাকে। এছাড়া অর্থ যেন কেবল যথাযথ বা অনুমোদিত সুবিধাভোগীর কাছেই পরিশোধ করা হয়। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যেই কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে। কার্ডটি শিক্ষা-সংক্রান্ত উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

অর্থাৎ বিদেশে পড়াশোনার জন্য অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে ব্যক্তিগত কেনাকাটা, ভ্রমণ বা অন্য কোনো কাজে ব্যয়ের সুযোগ থাকবে না।

KYC ও AML/CFT যাচাই বাধ্যতামূলক

কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রা লোড করার আগে ব্যাংকগুলোকে বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের Know Your Customer (KYC) এবং Anti-Money Laundering/Combating the Financing of Terrorism (AML/CFT) সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করতে হবে।

অর্থাৎ শুধু বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেমেন্টের প্রয়োজন দেখালেই কার্ডে অর্থ লোড করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে গ্রাহকের পরিচয়, অর্থের উৎস এবং অর্থ প্রদানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যথাযথভাবে নিশ্চিত হতে হবে।

নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর এডি ব্যাংক কার্ডে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা লোড করতে পারবে। তবে ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট AD ব্যাংক যে সময়সীমা নির্ধারণ করবে, কেবল সেই সময় পর্যন্ত বৈধ থাকবে।

অর্থাৎ একবার শিক্ষা খাতে ব্যবহারের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা লোড করা হলে তা অনির্দিষ্টকাল ধরে রেখে দেওয়া বা অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে না।

ব্যাংককে সংরক্ষণ করতে হবে সব নথি

কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষা-সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের প্রতিটি লেনদেনের যথাযথ হিসাব রাখতে হবে ব্যাংকগুলোকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এডি ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণ করতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজন মনে করলে সেগুলো উপস্থাপন করতে হবে।

এতে কোন শিক্ষার্থী, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, কী উদ্দেশ্যে এবং কত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার করেছেন—এসব বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পরবর্তীতে যাচাইয়ের সুযোগ থাকবে।

নতুন সুবিধার আওতায় সম্পন্ন সব লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, এডি ব্যাংকগুলোকে উপযুক্ত Purpose Code ব্যবহার করে TM Module-এর মাধ্যমে এসব লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট করতে হবে।

এর ফলে শিক্ষা খাতে কার্ডের মাধ্যমে কত বৈদেশিক মুদ্রা যাচ্ছে, কোন ধরনের পেমেন্টে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলো নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না—তা কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।

বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের নিয়ম বহাল

তবে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারের এই নতুন সুবিধার কারণে বিদেশে শিক্ষার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের অন্যান্য নিয়ম পরিবর্তন করা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, overseas education-এর জন্য foreign exchange release সংক্রান্ত অন্যান্য সব নির্দেশনা আগের মতোই বহাল থাকবে।

অর্থাৎ নতুন সুবিধাটি মূলত বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের ক্ষেত্রে একটি অতিরিক্ত পেমেন্ট চ্যানেল তৈরি করছে; এটি বিদেশে পড়াশোনার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের বিদ্যমান যোগ্যতা, যাচাই-বাছাই বা অন্যান্য নিয়ন্ত্রণ বাতিল করছে না।

শিক্ষার্থীদের জন্য কী পরিবর্তন হলো?

সার্বিকভাবে নতুন ব্যবস্থায় বিদেশে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমে সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে অনুমোদিত শিক্ষা ব্যয় পরিশোধের সুযোগ তৈরি হওয়া।

বিশেষ করে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ট্রান্সফারের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক কার্ড, ভর্তি পোর্টাল বা নির্দিষ্ট অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে, তাদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কার্যকর হবে।

তবে সুবিধাটি শিক্ষা-সংক্রান্ত বৈধ খরচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং ব্যাংকের যাচাই-বাছাই, নির্ধারিত বৈদেশিক মুদ্রার সীমা, কার্ডের মেয়াদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্টিং ব্যবস্থার আওতায় থাকবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার