বিজ্ঞাপন
সয়াবিন তেলে ৬ ধরনের প্লাস্টিক পলিমার (তালিকা)
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ এএম
বিজ্ঞাপন
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া সয়াবিন তেলের নমুনায় ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। তাদের মতে, এসব পলিমার উৎপাদন, পরিশোধন, সংরক্ষণ, পরিবহন কিংবা প্যাকেজিংয়ের বিভিন্ন ধাপে তেলের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষক ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করে এ গবেষণা পরিচালনা করেন। পরীক্ষায় সব নমুনাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও পলিমারের ধরন ও পরিমাণে ভিন্নতা ছিল।
সয়াবিন তেলে শনাক্ত হওয়া ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার
১. লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই)
প্লাস্টিকের মোড়ক, প্যাকেট ও প্যাকেজিং সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গবেষকদের ধারণা, প্যাকেজিং উপকরণ থেকে এর কণা তেলের সঙ্গে মিশতে পারে।
২. হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই)
প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান, ড্রাম ও সংরক্ষণপাত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। উৎপাদন ও সংরক্ষণের বিভিন্ন ধাপে এ পলিমারের কণা তেলে প্রবেশ করতে পারে।
৩. পলিপ্রোপিলিন (পিপি)
খাবারের পাত্র, ঢাকনা, পাইপ ও বিভিন্ন প্যাকেজিং উপকরণ তৈরিতে ব্যবহৃত একটি বহুল প্রচলিত প্লাস্টিক। তেল উৎপাদন ও পরিবহনের সময় এর ক্ষুদ্র কণা মিশে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৪. পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি)
পানীয় ও ভোজ্যতেলের বোতল তৈরিতে ব্যবহৃত স্বচ্ছ প্লাস্টিক। বোতলজাত তেলেও এ পলিমারের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
৫. পলিইউরেথেন (পিইউ)
কারখানার ফিল্টার, সিলিং উপকরণ, কোটিং ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ব্যবহৃত হয়। গবেষকদের দাবি, ভোজ্যতেলে এই পলিমারের উপস্থিতি এবারই প্রথম শনাক্ত হয়েছে।
৬. নাইলন (পলিআমাইড)
ফিল্টার, শিল্পযন্ত্রের অংশ, দড়ি ও বিভিন্ন সিনথেটিক উপকরণ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গবেষণায় ভোজ্যতেলে নাইলনের উপস্থিতিও প্রথমবারের মতো শনাক্ত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, উৎপাদন ও পরিশোধনের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, ফিল্টার, সিলিং উপকরণ কিংবা প্যাকেজিংসামগ্রী থেকে এসব পলিমারের ক্ষুদ্র কণা তেলে যুক্ত হতে পারে। তবে কোন ধাপে কোন পলিমার তেলে প্রবেশ করেছে, তা এ গবেষণায় নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।
গবেষণায় প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা বা ব্র্যান্ডবিহীন তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি ছিল। এছাড়া শনাক্ত হওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের ৮২ দশমিক ৫ শতাংশই ছিল তন্তু (ফাইবার) আকৃতির।
গবেষণাটি ২০২৬ সালের এপ্রিল সংখ্যায় আন্তর্জাতিক সাময়িকী জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিসে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকেরা খাদ্য উৎপাদন ও প্যাকেজিংয়ের প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং খাদ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করেছেন। তবে তারা উল্লেখ করেছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হলেও এটি মানুষের নির্দিষ্ট কোনো রোগের সরাসরি কারণ—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যপ্রভাব জানতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন।