বিজ্ঞাপন
ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের টাকা তোলার হিড়িক
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:৪০ পিএম
বিজ্ঞাপন
দেশের বাণিজ্য ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চলমান অস্থিরতার মধ্যেই গতকাল রোববার (০৭ জুন) একদিনেই ১৫০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে গ্রাহকরা। এছাড়া গত পাঁচ কার্যদিবসে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশিদ আলম নিয়োগ পাওয়ার পর এই উত্তোলনের চাপ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, খুরশিদ আলমের নিয়োগের পর থেকেই গ্রাহকদের মধ্যে অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা দ্রুত বাড়তে থাকে।
২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদ হারান। চলতি মাসের ১ তারিখ দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল তার। তবে তার নিয়োগকে কেন্দ্র করে 'ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম'-এর ব্যানারে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে ওই দিনের নির্ধারিত বোর্ড সভা বাধাগ্রস্ত হয়, কারণ বিক্ষোভের কারণে খুরশিদ আলম তার প্রথম কর্মদিবসে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সভাটি অনলাইনে আয়োজনের নির্দেশ দেয়।
একই দিনে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিক্ষোভের মধ্যেই তৎকালীন চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমান পদত্যাগ করেন। ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন স্বীকার করেন, কিছু গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, আমি গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানাই। এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হয়ে টাকা তোলার কোনো কারণ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে যেকোনো ঋণ অনুমোদন কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমি আশা করি, বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকদের উদ্বেগ দূর করতে এবং বর্তমান পরিস্থিতি সমাধানে এগিয়ে আসবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা ইসলামী ব্যাংককে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। গ্রাহকরা নগদ টাকা তুলে নিচ্ছেন নাকি অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করছেন, সেটিও আমরা নজরদারি করছি।’
তিনি জানান, ব্যাংকটি এমন অবস্থায় নেই যে তারা উত্তোলনের চাহিদা পূরণ করতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘যদি ইসলামী ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়ে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তা দেবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও ব্যাংক সংকটে পড়েছিল এবং তখন বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্য সহায়তা দিয়েছিল। আমাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠন করা হয় এবং ২০২৫ সালে ব্যাংকের মোট আমানত বেড়ে ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়। এক বছরে আমানত বেড়েছিল ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি। ওই সময়ে নতুন আমানত উত্তোলনের চেয়ে বেশি হওয়ায় ব্যাংকের সামগ্রিক আমানত ভিত্তি সম্প্রসারিত হয়।
তবে নতুন চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের নিয়োগের মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই ব্যাংকটি প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আমানত হারিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভ অব্যাহত: ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাংকটির কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল (৭ জুন) মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের প্ল্যাটফর্মের সভাপতি নূর নবী মানিক দাবি করেন, খুরশিদ আলমকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে। তিনি আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশব্যাপী দুই ঘণ্টার 'কলম বিরতি' ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, কথিত অনিয়মের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের অধিগৃহীত ইসলামী ব্যাংকের ৮২ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে বকেয়া ঋণ সমন্বয় করতে হবে।
মানিক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, খুরশিদ আলমকে ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং কোনো ঋণখেলাপি বা অভিযুক্ত পরিচালককে ব্যাংকের বোর্ডে রাখা যাবে না।
সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা: ব্যাংকের একজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশের বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপকরা খুরশিদ আলমকে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি ও আমানত উত্তোলনের চাপের বিষয়ে একাধিকবার অবহিত করলেও এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।